দূরালোকের জীবন ও অন্যান্য ॥ গোলাম কিবরিয়া পিনু



দূরালোকের জীবন

জীবনটা যে পুরোটাই পণ্যসামগ্রী হয়ে গেল, যাকে
বলে পণ্যের প্রমিতকরণ, তা টেরই পেলাম না।
এই সময়ে-চতুর্দিকে পণ্যময় বর্বরতা, প্রস্তর
নির্মিত দিন। এতটা দুঃস্থ হয়ে-এজীবনকে বৈধতা
দিয়ে কী লাভ হলো? ছুটছি আর ছুটছি-নিজের
জন্য আকাশ দেখার সময়টুকু নেই, শ্বেতকরবীর
কাছে গিয়ে দাঁড়ানোর সময়টুকু হারিয়েছি-অনেক
আগেই, নদীর জলে পা রাখার ইচ্ছে তো-আরও
দূরবর্তী। মনে হচ্ছে-এ জীবন দূরালোকের জীবন।
সেই জীবনটা এত কাছে এলো কেন?


জেলখানা

জেলখানা আরও বেশি বেশি স্থাপিত হচ্ছে-সরকার
দ্বারা নয়, আমাদের দ্বারা, আমাদের মাঝে। কেউ
কাউকে বিশ্বাস করি না, বিশ্বাস এখন জন্ডিসে আক্রান্ত,
চুরি ও প্রতারণা বেড়ে যাচ্ছে-বন্ধু থেকে বন্ধুর মধ্যে,
ভাই থেকে ভাইয়ের মধ্যে, সহকর্মী থেকে সহকর্মীর
মধ্যে, এমন কি আত্মীয়তাবোধের যে সবুজ গাছটি
উঠানে উঠানে বেড়ে উঠেছিল, তাও ঝড়ে দুমড়ে-মুচড়ে
পড়ে যাচ্ছে। কেউ কাউকে কারাগারে না রাখা পর্যন্ত
নিরাপদ ভাবছি না।


পুকুরের সৌন্দর্য

আমার পুকুরে এসে গোসল করার কথা কি ছিল?
এই সাতসকালে? ছিল না।
কিন্তু এসে গোসল করছো-
দু’পায়ে নামছো
পা নাড়ছো
হাত নাড়ছো
সাঁতার দিচ্ছো
সূর্যস্নান সেরে নিচ্ছো? স্ফুর্তি পাচ্ছো?
ঠাণ্ডা জল নাকি উষ্ণজল পুকুরের?
আড়ভাঙা অবস্থায় দৃষ্টিপাত করছো-
পুকুরের সৌন্দর্য কি নজরকাড়া?
তুমি কি বিমোহিত?


অন্তর

অন্তর স্থাপন কর অন্তরে
তীব্র-কড়া প্রণয়ের জল বাধামুক্ত হোক
লালসাকে বাঁধো দড়ি দিয়ে
এলোমেলো পা না ফেলে
নিকেলের-রূপ ধূপ জ্বালিয়ে পোড়াও,
এরপর অন্তত ধাতস্থ হও-
অষ্টধাতু হয়ে নষ্ট হয়েও না।
গ্রন্থের বিশেষ অধ্যায় এখনো পড়নি
গুপ্ত রাখো সুপ্ত রাখো সে প্রেম ও ভালোবাসা
তা প্রখর করো প্রচণ্ড রোদের তেজে
প্রশান্তচিত্তের প্রজাপতি হও।