নিলয় রফিকের কবিতা

শব্দপলি

দক্ষিণে ডেইলপাড়া লালমাটি পাহাড়ে সবুজ
উঁচুটিলা বৃক্ষসারি সমতলে আদিম আবাস
রাস্তার পাঁজরে ডানে, কৃষিজমি সোনালি কুহক
অলিন্দ্য সুখের ছায়া, চোরাবালি গুহায় হোঁচট।

মূলদাগে খতিয়ানে নিলামের উঠেছে স্বরূপ
আত্মার মহলে ঢেউ পড়ে আঁখি নজরে নন্দন
চুক্তির বায়নানামা শব্দপলি কবিতা-আলয়
নিরিবিলি স্বর্গকুঞ্জে বিধাতার শিল্পের যাপন।

মুগ্ধতা পাখির সুর, জোছনার প্লাবিত পূর্ণিমা
নান্দনিক সুপ্রভাতে স্বপ্নমোহ যুগল ডানায়
সুন্দরের জানালায় সৃষ্টিশৈলী রূপক বুনন
ছন্দেগাথা আত্মলিপি নৈর্সগিক আগামী ঠিকানা।


নাভির শেকড়

শহরে দালান ছেড়ে, মৃত্তিকার নাভির শেকড়ে
অচেনা জীবাণু ছায়া, কৌশলের ছন্নায় শরীরে
চাবি ধরে টানাটানি দেহযন্ত্রে হঠাৎ বেঁহুশ
ঈশ্বরের দরবারে হাজিরা খাতায় কালো দাগ।

ঝড়ের আকাশে বৃষ্টি, বাঁধভেঙে অথই জোয়ার
হারানো শোকের বুক ফালি ফালি আঁধার নয়ন
মানচিত্রে ঘনঘোর আলোর প্রভাতে দৃষ্টি মুখ
আগামী সবুজ ডানা, পৃথিবীর বিশুদ্ধ সৌরভ।

গাধার কবলে আজ বুড়িগঙ্গা সলিল সমাধি
শোকার্ত ফুলের দেশ, আহাজারি শব্দের রোদন
পাঁজর ভাঙার ঘরে, মিথ্যাগুলি আয়নামহলে
পথের জানালা খুলে অপলক কালের স্বরূপ।


সমুদ্রের ফাল্গুনে


সামুদ্রিক ফাল্গুনের পরিযায়ী ডানা
সুন্দর শরীরজুড়ে নোনাজলে নৃত্য-মন
দৃষ্টির নিষিদ্ধ পথে বাতাসে উল্লাস
উন্মাদনা শব্দপাতা বসন্তে অইন।

দুইহাতে পিতামাতা টেনে নেয় প্রেমের সাঁতার
বুক ফাটে ভয়ে ডুব দাও সোনা ফুল
দুলছে পাহাড়ে পাখি আনন্দে শৈশবে মায়া চোখে
মুখ গুঁজে ছাগলের মতো গ্যাট ধরে ফুটন্ত সৌরভ।

দূষিত আলোক ছেড়ে স্বর্গের শহরে
যেতে হবে আদিগুহা প্রকৃতির নিয়ম সুরের
কীসের শরমে ভাসো নিয়তি কাগজে রেখা
সাহসে দাঁড়াও দেহ সংসারের সুখ।

টীকা:
ছন্না= ছদ্মবেশ।
অইন=আগুন।
গ্যাট=জিদ।