পরজীবী জীবন ও অন্যান্য॥ জেবুন্নেছা জোৎস্না



পরজীবী জীবন


নিস্তব্ধ নির্জনতায় আজ আর আমরা
ভালবাসার কোন স্বপ্ন বুনিনা।
কপোত-কপোতীর ঠোঁটে
ফকফকা জোছনার উৎচ্ছেরিত ওমে
বিনিময় হয়না কোন কথা;
হাতে হাত রেখে রাতের নিমগ্নতায়
শুনিনা ঝিঁঝিঁর নিরবিছিন্ন কোন এক গান।

এখন আমরা অনেকটা পরজীবী হয়ে গেছি।
সমান্তরাল, পারস্পরিক সমঝোতায়,
কৌশলী ছত্রাকের ভূমিকায়
হিসেব কষে কষে একে অন্যকে
শুষে নেবার পাঁয়তারায় যাচ্ছে দিনকাল বেশ।

যাক্ তবে। হোক জীবন শুধু আমার।
বাতাসে ছুটে চলা বিচ্ছুরিত দুরন্ত বীজে-
প্রেমের প্রলেপ মাখি ভ্রাম্যমাণ জলীয় বাষ্পস্রোতে।
জড়িয়ে খড়কুটো তাতে, ফোটাই না কেন অনিন্দ্য অকির্ড?
শৈল্পিক নিঃসর্গে যাক ভরে তবে
বেদনাবিহীন নিঃসঙ্গ সময়।
জীবনের মানে শুধু হোক,
বড়োই ব্যঞ্জনাময়।


মায়া

কতোটা বোদ্ধা হলে সহজেই মিশি নিমিষে,
দোষ-প্রদ্যুষে-প্রত্যুষে।

অথচ তুমি ক্রমশঃ দূরে কস্তুরি অবয়বে—
অশরীরি মৃগয়া জোছনায়,
খোলা জানালায় আগন্তুকের
অবাধ যাতায়াতে—

বদলে দাও চেনা দৃশ্যপট:
আশ্বিনের পূর্ণ ডুবু ডুবু চাঁদ-
বাতাসের টানেলে আঁকো
এক অচেনা প্রভাত।

রডোডেন্ড্রনের নীলাভ রহস্য প্রেমে,
আমি তখন ক্রমশঃ জ্বলি একা—
ক্যামোফ্লেক্সের উষ্ণতায়, বদলে যাওয়া
সম্পর্কের মায়াজালে।