চন্দন চৌধুরীর কবিতা

পরমের আলোগুলো

এই দৃশ্য এপাড়ায় থাকে- হাসে গায়, আদর বকুনি খায়
আমাদের অনুভবে মরে; অথচ আমরা দেখি ঘন বেলা
রূপের নহর গলে গলে পড়ে- যেরকম ফুল ফোটা শেষে
পালক পতঙ্গ হয় পৃথিবীর মতো এক পোষা পেন্ডুলামে;
রোদে রোদে উঁকি দেয়া বেদনার বাড়ি এদৃশ্যে যথার্থ লাগে-
অনুগত আলোগুলো অঝোর হৃদয় বেয়ে একাকি অসুখ হয়ে
ফেরে জীবনের কাছে- তখনও আনন্দী এক বেঘোর ঘুমেতে
জেগে থাকে প্রতাপী মায়ার মতো আমাদের প্রাণপুঞ্জজুড়ে

এ দৃশ্য যখন অবিরত গৃহ থেকে বাড়ি থেকে ফেরে ফেরে
ক্লান্ত গোধূলির ধুধু ছড়িয়ে স্বকাশে মহারক্তের ভেতর
তুমুল ঢেকুর তোলে, তখন বিদায়ী পৃথিবীর শোকে ঢের
বাজে মৃদঙ্গেরা আমাদের ঘাসফুলে, শিশিরের প্রিয় লাজে;
আমরা তাকিয়ে থাকি আমাদের দিকে- ঠিক নক্ষত্রে নক্ষত্রে
যেরকম ভাব আলোয় আলোয়, যেরকম আত্মায় পরমে

বিপ্লব

ধরো, ভোরে জাগা পাখি বিকেলে নিজের নাম ভুলে যায়
গান ভুলে যায়
ভুলে যায় পাখার আওয়াজ
বিপুল অতীত
শুধু ভুলে না একবার সে জেগেছিল, যেভাবে পৃথিবী জাগে

হিসেব

কদম গাছের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে
মা আমার বয়স হিসেব করলেন
আর বললেন, এই যে কদম গাছ
তোর স্মৃতির সমান, ঠিক তার আগে
তোর বাবা ফুলে ফুলে সাজিয়েছিলেন
আকাশে যত নক্ষত্র দেখা যায়, সেই
হিসেবেও নয়, তারচে অধিক রং
লেগেছিল পত্রে পত্রে, আমার আপনে

পরম গভীরে আনন্দের ঢেউ লাগে
বাতাসে বাতাসে মন ফুলে ও পাতায়;
তুই তখন আমাদের হৃদয় থেকে
উৎসারিত হয়ে উঁকি দিলি পূর্বাকাশে
যেভাবে দিবস আসে সূর্যের স্বভাবে
জীবনের জন্ম হয় হৃদয়ে শরীরে