পাখি ও মানুষ এবং অন্যান্য॥ সোহেল মাজহার



পাখি ও মানুষ

মানুষ যখন অন্যায়ের প্রতিবাদে
রাজপথে জড়ো হয়
সে পাখি হয়ে যায়
গেয়ে ওঠে গান।

দলবেঁধে উড়ে উড়াল ডানা
পায়ের নখে উড়িয়ে নিয়ে যায়
শিকারীর শিকার ফাঁদ
মানুষের মুষ্টিবদ্ধ দৃপ্ত হাতের ভঙ্গি
উড্ডয়নপর ডানার সাদৃশ্যে ঘোর লাগে
কাঁপন ওঠে দশদিগন্তে দৃশ্য লোকে,
জাদু কুহকে ধ্বস্তবিধ্বস্ত…

পাখিকে খাঁচার ভেতর বন্দি করে
তোতাপাখির ইশারা ও কথা সঙ্গীতময়
দম দেওয়া কলের পুতুল হয়ে যায়
রঙধনু রঙ আর মানুষ কায়ারূপ।

রাজপথে গুলি আর গুলতির তীর বৃষ্টি
উপবনে – উপত্যকায় পাখিগুলি পালকদৃশ্য
সান্ধ্য নিউজের ফটোগ্রাফি, লিড স্টোরি হয়ে যায়
শরীর থেকে প্রবাহিত হয় পাখির রক্ত স্রোত
রক্তের যে কোন ইতর-ভদ্র নেই
নদীর জলে আর নদের জলে কোন বিভেদ নেই।


কাব্যকায়া

মানুষের ভেতর লুকানো থাকে গোপন ছুরি
সহজাত বলে সম্ভাষণে আড়াল হয়
গোপন অভিসম্পাত, শিশিরের বিন্দু
বিন্দু বিন্দু মেঘে জন্ম হয় জলপ্রপাত
মানুষের চোখ বেয়ে গরিয়ে যায় বলে
তার নাম বৃষ্টি,ফুলের স্নিগ্ধ কাতরতা।
শিশির ও কুয়াশা চাদরে হারিয়ে যায় বলে
মানুষ লুকানো ছুরির রক্তরাগ ক্ষীপ্ররেখা
আড়াল করে – মীনের শরীরে লেগে থাকা ক্লেদ
গোপন অভিসম্পাতের আড়ালে উচ্চারিত
নমস্য ধ্বনি, কণ্ঠ নীরবতা ভাঙে তপোবন
পাখির শান্ত সন্ত্রাসে ধরা দেয় কাব্য কায়ারূপ


সমুদ্র

সমুদ্র অবগাহনে যেতে চাও?
ডুবে যাও চোখের গভীরে
লবণ জল, পাহাড় সম ঢেউ
বাঘের হুঙ্কার, হু হু বাতাস
হাঙর ছোবল সব পাবে।

একটি তিমির ভেতর ঢুকে গেলে
দুঃখের শবদাহ হয় জলের মন্হনে…
অন্তিমের শয্যা আচ্ছাদিত হয়
ভেসে আসে বলে গন্ধমের ঘ্রাণ।

সমুদ্র অবগাহনে যেতে চাও?
তবে চোখের রক্ত শিরায় দাগ রেখে যাও।