পুরনো অসুখ ও অন্যান্য ॥ লুৎফুন নাহার লোপা


নদীটা

নদীটা ভেঙে যাবার পর
কাওকেই দায়ী করছে না ঘাসেরা,
ভেঙে যাবার পরেও নদী বলল-
আমি আছি।
বৈধতা পেয়ে উড়ে গেল পানকৌড়ি।
ভেবে নিলো অন্তত দক্ষিণের বাতাস
আর তার অহেতুক অধিকার দেখে
যেভাবে লতাগুল্ম ছড়িয়ে যায় মাঠে,
তার মতো করে কতবার জুড়ে গেছে
যৌথ বিবৃতি।
যেভাবে নির্বাচিত মানুষের কাছে
অব্যক্তই থাকে সর্বাধিক সংলাপ,
জলের ভেতরে প্রিয় কক্ষপথ ডুবে গেলে
সে প্রসিদ্ধ হতে শেখে।


সংকট

তিন দশকের একটি গাছকে ভেঙ্গে পড়তে দেখে
এড়িয়ে যাই একটি লাশের প্রতিচ্ছবি,

প্রতি রাতের জমানো সংকট থেকে
ফেলে দেই রূপান্তরিত জীবদ্দশা,
আর উত্তাপ ছড়িয়ে দেই কূল থেকে।

আঙ্গুলের ভাজে জমে থাকে অগ্নিখরা,
ভাদ্র মাসে আকাশ দেখি একা,
কিঞ্চিৎ আলো যে এখনো চাঁদ হয়ে যায় ।



পুরনো অসুখ


দীর্ঘ বিছানা ছেড়ে উঠে এসে তুমি
চুপি চুপি দেখে নিলে সন্ধ্যের সম্ভ্রম
কেবলই সঙ্গীর ঘুমের অপেক্ষায়
তার পুরোনো অসুখগুলো ঘেঁটে ঘেঁটে
বেরিয়ে এলো এ-বাড়ি ও-বাড়ির যাবতীয় সংশয়।
অথচ নিত্য সূর্য ডুবে গেলে
অনেকের সাথেই শেষ সাক্ষাৎ শেষে
অসুখগুলো পুরে নিতে হচ্ছে ঝাঝালো বাক্স ভরে।