ফারহানা নীলার কবিতা

কিছু নয় ওটা

ওটা ভয়ংকর কিছু নয়, শুধু সাপ
অথবা পথের মতো বিস্তৃত রাতের
বিলাপের সুর আর যাপিত শয্যায়
অবহেলার চাদরে উন্মত্ত সাগর।

ওটা হয়তোবা খুব নিষ্প্রাণ হাসির
দমকের গ্যালাক্সির ঘূর্ণন গতির
পথভোলা আর্তনাদ! নক্ষত্র সন্ধান
করার বিফল সেই নিষিদ্ধ প্রয়াস।

ওটা হয়তোবা স্মৃতি, ফসিলের ছাল-
বাঁকলে অনেক কথা খুনসুটি আর
অভিমান অভিযোগ বাড়ন্ত শরীরে!
সুযোগ সন্ধানী কোনো আততায়ী প্রেমে
নিষিদ্ধ গোলাপ ফুল গোখরোর নিবাস।

বাস্তুসাপ কিলবিলায় যুগল স্রোতের
অমোঘ চলার মত বিরূপতা নিয়ে
বসবাস ইতিহাস, উদ্যত ফণার
ফণাধর সাপ- মনে ভয়াবহ রাত!


ধুলো

অনেকগুলো সময় দাঁড়িয়েছে দরজার পাশে
কড়া নাড়ে অবিরত! কপাটের খিল আঁটা জানি
তবু ভয় করে কেন? চৌহদ্দির ঘের আঁকি আমি!

কাকাতুয়া খাঁচা খোলে, টিয়ে ফিঙে বাইরে নাচের
মহড়ার মত খেলে, এইসব রাত্রিদিন আজ
ভিজিয়েছি জলে আর রোদ জ্বালা করে চোখে
বসন্তের মত বয়ে গেছে চলে লিলুয়া বাতাস।

সময়ের সাথে ডুবে- দ্বাদশীর চাঁদটা; কোথায়?
কৃষ্ণপক্ষ এনেছিলে সেই তুমি দোলনায় ঢুলে।

অনেক সময় জড়ো হয়ে আছে আমার শিথানে
এখনই যাওয়া যায় গোলা ভরা ধান, পুঁইলতা
ওসব আমার কাছে হাঁটু গেড়ে বসে আছে কেন?

পূজোর দিনের ছায়া দখিনের জানালায় কেন?
উত্তর দক্ষিণ নাকি পশ্চিমের কোণে পূব মেশে?
দিক ভুল করে আমি চৌকাঠের মাঝে বসে থাকি।

অনেকটা সময়ের কাছে ঋণ করি আরো কিছু
সময়! বাতাস এলো? নাকি চলে গেলো? ভুলে যাই
ভুলোমনে বুঝি ভাসে বায়স্কোপ এটা নাকি ওটা?

একটা ট্রেন ছেড়েছে প্লাটফর্ম ধুলো পড়ে চোখে
হুইসেলের শব্দ ক্রমে দূরবর্তী-ধুলোমাখা আমি।


ঘর খুঁজো না

চরাপাশে আজ বৃষ্টি সোঁদা ঘ্রাণ নিয়ে
মাটির গভীরে খুঁজি জোছনার ঢল।

এতসব উল্টা পাল্টা আমাকে মানায়
নাকি? মেঘ এলোকেশী ঢেকে রাখে চাঁদ
মাটি ঢেলে দেয় মায়া কোথায় যাবো যে?

উড়ন্ত বাতাসে আজ শামুকভাঙা পণ
দুর্মুখ জীবন থেকে ঝরে গেছে কত
স্বপ্নের মতন তারা খসে পড়া আমি
আগলে রাখি করতল চাইতে পারি না!

কিছুই চাওয়ার নেই- উড়নচণ্ডী সে
যাত্রাবিরতি ছাড়াই পথিক সেজেছে।
আচ্ছা! ধরো জোছনার কথা কিম্বা মাটি!
ওসব কথায় মন ভরছে না জানি।

মাত্র লিখলাম দুটি চরণে ভাবনা
জলের লেখায় পড়ো কি তুমি আবার?
ওখানে জল থৈথৈ জোছনা আঁধার,
ওখানেই ভেজা মাটি ঘরটা কোথায়?