ফেরদৌস নাহার এর কবিতা


অন্যচোখে

একদিন সে আমার চোখের মণি ছিঁড়ে নিয়ে বলেছিল
এইবার লাগাব নিজের চোখে
দেখি তোকে দেখতে পারি কিনা তোর মতো করে
ছন্নছাড়া বাতাসের বিমনা সাঁতার রক্তের বাঁক ভুলে
চলে গেল অন্যপথে

রাতদিন গান গায় ধুলোর পাখি
চোখ গেল! চোখ গেল!! চিৎকারে
উন্মাদ চাঁদমারি ডুব দিল পুরাতন ক্রোধে
ভাষা নাই, ওরে পথ ভুলে ভুলে চলে গেলি অনার্য স্টেশনে
তোরও কি যাবার কথা ছিল মণিখোর চোখের অতলে
একবার বাঁক ফিরে দেখ
কী করে চোখ গেল অন্যচোখে


অসমাপ্ত অসুখ

ভুলে থাকা একটি অসমাপ্ত অসুখ
কখনই পুরোপুরি ভুলে যাওয়া হয় নারে
মেধার গহবরে অনেক ফোস্কা পড়েছে
মাঝে মাঝে জল ঠেলে অশ্রু ভাসে
আশঙ্কায় চমকে উঠি
আগামীকাল না জানি কে এসে
নিয়ে যাবে চিকিৎসার দেশে! তারপর
আড়ালে খুব করে একটি কী দুইটি
জুতসই গাল দেবে কষে

এসবের কোনো কিছুই চাই নারে ভাই, তারচে’
অসমাপ্ত অসুখেই থেকে যেতে চাই

তুইও ভালো থাকিস, যাই



জন্মান্ধ নদী

এজন্মে নয় আরেক জন্মে, যখন আপনি ছিলেন উড়ন্ত ঈগল আর
আমি ছিলাম জন্মান্ধ খরস্রোতা নদী
আপনাকে সঙ্গী করে উড়ে যেতে চেয়েছিলাম বিষুবরেখার আকাশে
এসব স্বপ্ন এখন আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত, গতজন্মের স্মৃতি বলেই কি
বিজন রোদ্দুর ভেঙে একা একা হেঁটে চলি অজানা পথে
গ্রামের মতো দেখতে, ঠিক গ্রাম নয়, বাড়ির সামনে পুকুরের ছায়া
মাঝরাতের ছায়া, মায়া মায়া। ভুলে গেছি কবে যেন দেখেছি এসব

জন্মান্ধ নদী হয়ে আর জনমে জন্মেছিলাম, পাশে ছিল শাদাছড়ি
জলের উপরে ছড়ি ফেলে যেতে যেতে ঈগলের পাখা ধরে ফেলি
তখন আকাশে ছিল ঘুড়িদের প্রবল ওড়াউড়ি, সবছিল, কিছু ছিল না
অন্ধত্ব দূরে বসে দেখেছিল চোখের বিষণ্ন কারসাজি
এখন কিছুই দেখি না