বর্ষা ও টর্চলাইট এবং অন্যান্য ॥ আজিজ কাজল



বর্ষা ও টর্চলাইট

গাঢ় ঝামা-অন্ধকারে মজে আছে কিছু মাটির মোহর—
সায়া সায়া পুরনো ঝাপসা রাস্তায়, লম্বা টর্চের বর্শাফুলের আলো সবুজ জমিটা দু’ভাগ করলো;

আলোয় প্রচুর পাওয়ার—একদিকে গাঢ় ঝামা-অন্ধকার, আরেকদিকে দ্রৌণাচার্য’র বর্শাফুল’র সবুজ রাস্তা
ঘন-বর্ষার তিমির রাতে এই পথ দিয়ে হাঁটলে, এক বৃদ্ধের জাল-তরঙ্গ চোখ মাছের শুন্য ডুলায়
কেঁদে কেঁপে ওঠে—গাঢ় ঝামা-অন্ধকারে মজে আছে আরও কিছু মাটির মোহর, অনালোচিত সুষমা।


অলিম্পিক ব্যাটারি

অলিম্পিক ব্যাটারির মায়া-শক্তিতে কেঁপে ওঠে আধা ইঞ্চি রেডিওর কঙ্কাল শরীর।

বলপেনের ধোলাই হাতে ঘুরছে ঘরভর্তি বই, মাকড়ের নকশা।
বাংলা ছায়াছবিতে মায়ার শেকড়—
‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুশ দম ফুরাইলে ঠুশ্’।
কখনো কৌতূহল বশে রেডিওর ঘাট সরালে,
চীনের চেঁ-চিঁউ চিঁং-চিঁং আওয়াজ—
অদ্ভুত পুরনো-কিছু আনন্দ প্রবাহে হারিয়ে যাওয়া

এন্ট্রান্স পাশ করা যুবক প্রাচ্যে গিয়ে হাই হ্যালোতে কাতর
জারজ গলায় তার ধরা আছে সুরের বর্তমান—
হায়, আমি আসকর নই, মি. অ্যাজকর।

মেছোদাগে

পৃথিবীর সব ঘাট এক হলে, নিজেই নিশানা ধরো পুরনো স্রোতে;
পরিপার্শ্ব প্রেমের ডাকে আজো খাই গুঞ্জাফুলের ঘট,
প্রজাপতির বর্ণিল দাগ তোমার স্বর্ণ-প্রসব্য উদরে ছাই হয়ে যায়।

একটি বহুলস্রোত জনপদের প্রত্নশাখায় আঁকি বাস্তুপুরাণের ছক

জীবাশ্ম চোখে, নদীর এলেবেলে খৈ-শাঁখে তোমায় ডাকি,
মা-মাছের দুর্লভ আমিষ ও স্বর্ণ-স্রোত মুদ্রায়।

মরিচা রোদ

সমুদ্রের গজদাঁতে লটিয়াও ধারণ করে ফর্সা-সুন্দর মুখ;
তুমি বাসন্তিসুন্দর, ছইফুলের নদী, ছাইপাতা এঁটো জোছনায় তোমায় নির্বাণ করি

এখনও লাল সন্ধ্যায় কিষাণেরা পরিতৃপ্তি নিয়ে ঘরে ফিরছে
রাতগুলো উড়ছে বসন্ত পরানে।