বৃষ্টি এলে ও অন্যান্য ॥ সুদীপ্ত বিশ্বাস



প্রেম

প্রেম মানে তো অন্ধ, জেনেও থমকে থাকি প্রেমে।
এসব কথা ক’জন বলো বোঝে?
অনেক পুড়ে অনেক জ্বলে অনেক ক্ষয়ে ক্ষয়ে
প্রেমিক তবু বিষাদ নদী খোঁজে।
আকাশ থেকে নামলে ঘোড়া কিংবা তারাখসা
হাতছানি দেয় মৃত্যুপুরীর নদী
শীতল বিষে মৃত্যু নামে, প্রেমিক তবু ভাবে,
‘আমার পাশে থাকতে তুমি যদি।’
দুঃখ, হ্যাঁগো দুঃখ পেয়েও তুষের আঁচে পুড়ে
সমস্তরাত অভিমানে ভিজে,
বিষাদরঙা নদীর পাড়ে একলা বসে থাকে
যায় না ফেরত নিজের কাছে নিজে।


বৃষ্টি এলে

বৃষ্টি এলে বুকের ভেতর গোলাপ কুঁড়ি ফোটে
বৃষ্টি এলে মনটা বড় উদাস হয়ে ওঠে।
বৃষ্টি এলে শিউলিতলায়, ছাতিমগাছের ডালে
মনটা বড় কেমন করে বৃষ্টি-ঝরা কালে।
এখন তুমি অনেকদূরে না জানি কোনখানে,
ভিজছো কিংবা গুনগুনিয়ে সুর তুলেছো গানে।
তোমার গানের সেই সুরটাই বৃষ্টি হয়ে এসে
টাপুরটুপুর পড়ছে ঝরে মেঘকে ভালবেসে।
মেঘ বিরহী, কান্নাটা তার বৃষ্টি হয়ে ঝরে
তোমার বুঝি মেঘ দেখলেই আমায় মনে পড়ে?


একলা আমি

সেই নদীটার কাছে আমি যেই গিয়েছি
সে তো শুধু চুপটি করে শুনল কথা
সেই পাহাড়ের কাছে আমি যেই গিয়েছি
তার তো তখন বুকের ভেতর নিরবতা।
এই আমিতো এরও আগে কয়েকশ বার
এদের কাছে এসেছিলাম তোমায় নিয়ে
তখন তাদের সবার কত প্রগলভতা
খিলখিলিয়ে হাসত শুধু সমস্ত দিন।
এখন তুমি যেই গিয়েছ আমায় ছেড়ে
এদের সবার গোমড়া মুখে কুলুপ আঁটা।
তোমায় ডেকে দিলাম চিঠি হাওয়ার গায়ে
তোমায় ডেকে দিলাম চিঠি ঘুড়ির বুকে পাখির ডানায়…
সেই পাখিটা উধাও হল, স্তব্ধ হল বাউল বাতাস
সেই ঘুড়িটা গোত্তা খেয়ে পড়ল খসে মাঠের পাশে
ক্যালেন্ডারের দিনগুলো সব থমকে আছে মুখ বেঁকিয়ে
আকাশ জুড়ে অন্ধকারে একলা আমি… একলা আমি…