মাসুদুল হকের কবিতা


বাড়ি ও নারী

একটা বাড়ি রোদ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে
কপাট খুলে বসে থাকে অন্ধকারে

অলস দুপুর বুকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে
বিকেল হলে বারান্দাতে দোলনা দোলে

আদর্শপাঠ মগ্ন-মনে সন্ধ্যা রাতে
ঘুম তাড়িয়ে আঙুল-গুণে অংক কষে

সকলবেলা গান শুনিয়ে আগুন হাতে
রান্নাঘরে রোজ বাড়িটা নারী সাজে


ভাতঘুম

দুপুরের ভাতঘুম বিকেলের বৃষ্টিতে ভিজে গেলে
আমাদের বিষণ্ন হৃদয়
জলের আয়নায় আকাশের মুখ দেখে

দিগন্তের প্রসঙ্গ আলাদাভাবে মনে না থাকলেও
বৃষ্টিভেজা পৃথিবী আমাদের সীমান্তের ভূগোল চেনায়

ভুটান পাহাড়ে রোদ উঠে আসে…

আকাশ বলে কিছুই থাকে না
শুধু পাহাড় আর পাহাড়

মাটি, পাথর, মেঘ আর বাতাসের পাহাড়ে
নীল পারদের লুকোচুরি দেখতে
আমরা হাঁটতে হাঁটতে আকাশে চলে যাই

আন্ধকারে নীল হারিয়ে গেলে
নিবিড় সন্ধ্যায় একটি মাত্র চাঁদ
আমাদের সঙ্গে বাড়ি ফিরে আসে


খলিফা

জঙ্গলে কখনো হাতি দেখা হয়নি
আমাদের ঘরেই একটা হাতি ছিল

মাকে দেখতাম
মাঝে মাঝে হাতিটাকে চালাচ্ছে…

নাকের নিচে একপাটি দাঁত
ঠিক ট্রেনের ইঞ্জিন নয়
ঝিকমিক ঝিকমিক তালে চলতো
আমাদের গৃহপালিত পোষাকের জমিনে

আমি খুব চিন্তায় পড়ে যেতাম
হাতি কী খায়
কেননা কখনো বনের হাতি দেখিনি
মা প্রায়‌ই ওর মুখে তেল ঢেলে দিতো

একদিন সার্কাসের হাতি এলে
বুঝতে পারি
আমাদের ঘরের হাতিটা
আসলে সভ্যতার খলিফা!