মাহফুজা অনন্যা’র কবিতা



প্রেম-ধারাভাষ্য

হৃদয়ের ধারাভাষ্য সপ্ত নিনাদে বেজে চলেছে
তুমি কী শুনতে পাও?

পা থেকে মাথা পর্যন্ত তুমিই সত্য
আর কী প্রশ্ন তোমার?

কোন গ্রহে যাবে বলো
ইউরেনাস, নেপচুন, বৃহস্পতি?

আজ তোমাকে নাক্ষত্রিক ঔজ্জ্বল্য দিতে জেগে রয়েছে প্রেমের দেবী ভেনাস..


এখানে হরিণ আসে ভোরবেলায়

হতাশা আর মৃত্যু বাঁধাই-করা অমসৃণ গলির আলোহীন বাড়িটির একমাত্র বাসিন্দার কোনো প্রেমিক থাকে না।

রোজ রাতে দেয়াল ঘড়িটির সেকেন্ডের কাটার টুংটাং আওয়াজের সমানুপাতে একাকিত্ব কিংবা কেউ না থাকার কাঁটাটি বেজে চলে নিয়মহীন নিয়মে, দো-ভরসায় কাটে একাকী জীবন!

তবু রাত হলে একটি খরস্রোতা নদী উঠে আসে কবিতার খাতায়, হেলান দিয়ে ছায়া দেয় পৃথিবীর সামাজিক রাত। কবিতার একপাশে উড়ে এসে বসে নামহীন ভোরের কোকিল, সকাল হলে চোখ তুলে তাকায় একটি শান্ত মায়াহরিণ।

লুপ্তপ্রায় শহরের দেয়ালের কানে কানে আজও যারা গভীর রাতে ফিসফিস করে, মাঘের ছুরি বসিয়ে রক্তাক্ত করে কবিতার খাতার পাললিক জীবন, ওরা আর কেউ নয়, গদ্যময় প্রতিহিংসুক সুখ!

ওরা রুপালি স্রোতে ভেসে আসা উজ্জ্বল চকচকে পরমাত্মীয় সর্বনাশ, জীবনের পেয়ালায় থোকথোক অসুখ ঢেলে দেয় বারোমাস…


ভোগান্তি কবচ

মৃত্যুর উলম্ব নদী বরাবর পড়ে থাকে এক জোড়া চপ্পল
আঙ্গুলবিহীন আংটিতে টোকা দেয় ছায়াছন্ন প্রত্যাশা
হৃদয় রিফু করে আত্মাকে ছিনিয়ে নিয়ে যাচ্ছে জ্যোতিষচক্ষু মৃত্যুদূত
বেঁচে থাকা নিরীহ প্রাণগুলি ভোগান্তি বয়ে বেড়াই কবচের মতো