মা অথবা নারী এবং অন্যান্য ॥ ফেরদৌসী রুম্পা


মা অথবা নারী

মায়ের সাথে আমার শুধুই নাড়ীর সম্পর্ক!
জন্মের প্রথম বছরেই মা বিভক্ত হয়ে যায়
দ্বিবীজপত্রী বীজের মতো
রাজদণ্ডে দণ্ডিত স্রোতস্বিনীর স্তিমিত ঢেউ।

ভীত হরিণী, বাঘের থাবা
থেকে বাঁচতে পাখির ছানার মতো
লুকোতে পারেনি মায়ের উষ্ণ ডানার আড়ালে।

মা’কে কখনো ভালোবাসিনি?
শুধু দেখেছি প্রতিরাতে মায়ের অতিথি আপ্যায়ন!

তখন মায়ের কোলের পরিবর্তে ঘুমাতাম
বেড়াল কিংবা কুকুরের ওমে।

কিন্তু যেদিন─
মায়ের বুকে ‘আমি’ নামক দীর্ঘশ্বাসের
অকথিত মালিক আমার-ই ভক্ষক সাজে,
মা হাতে তুলে নেয় খড়গ; শোধ করে নারীর ঋণ।

নাড়ী শূন্য আমি দেখি মায়ের নারীর মহত্ত্ব!


ডাস্টবিন

কুকুরের কান্নার আড়ালে মানবশিশুর চিৎকার
একজনের প্রয়োজন খাবার
আর অন্যজনের আশ্রয়।
চাহিদার ভারে নত উভয় শিশুর
গন্তব্যস্থল ডাস্টবিন।

কুকুরতার প্রতি মানবতার যাত্রা
কুকুরের উদরপূর্তি!

আশ্রয় ও খাদ্য সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান কেন্দ্র
ডা
স্ট
বি
ন।


আমাদের কাটানো সময়

শেষবার কৃষ্ণচূড়ার আলিঙ্গনে
সবুজ জমিনে অগোছালো লালের আধিপত্যে
গাঁদায় মোড়ানো হাতে তোমার অধর,
পাহাড়ের বুকে ফুটে থাকা তাজা গোলাপের ভাঁজে বেনামী চিঠির দৌরাত্ম্য─
গন্ধ বিহীন শুকনো গোলাপে স্মৃতিকাতর প্রহেলিকায় শ্যাওড়া ধরা মুখচ্ছবি।

নুপুরের অস্থির ধ্বনি জানিয়ে দেয়
এবার ফেরার সময় হলো

লাইব্রেরি পুড়ছে ─
আত্মাদহনে আত্মহননের পথে লাখো অপঠিত পুস্তক।
এককোণে নিরবে শুদ্ধতার গলিতে, অর্ধ পঠিত পুরাকালের ভগ্ন পুঁথি।

সবই ঠিক আগের মতোই নিয়মতান্ত্রিক…
শুধু অনিয়মে ‘তুমি কিংবা আমি’ ─আর আমাদের এলোমেলো পদচারণা।