মেঘ অদিতি’র কবিতা


গার্হস্থ্য


কী লেখো ত্রস্ত হাওয়া!
বল, কোথায় আমার ঘর…
গার্হস্থ্য সমাধিতে কত আর
আমি বলব কবুল?


ঘোর চোখ, চেয়ে আছি
নিরুত্তাপ আগুনের দিকে
উৎসব থেকে সরে
হাত রাখি আজো
নিজস্ব ঘরানার খাঁজে

তবু উপচে পড়া বরফের বাঁকে
আহা, আমার শরীর ঢেকে যায়
সন্ধ্যাকাশে অকস্মাৎ
চোখ থেকে নিভে যায় জ্যোতি

আর সারারাত তুষারপাত
রক্তের ভেতর কেবল
গুনগুন করতে থাকে
প্রাচীন ধর্মশালার গান


মগ্ন বৈধব্যে পাপড়ি মেলছে
এখন নীল নয়নতারা
অহো! কী রকম যে ফ্যাব্রিকেশন!
ঘরকি তবে রাতের ঝালর কাটা
অপরূপ সব মিথ্যে সম্ভাষণ!

দুর্বোধ্য দৃশ্যের দিকে
এভাবেই সময় বয়ে যায়…
আমাদের ক্ষীণ কটি সময়…

পুঞ্জ মেঘের জমাট প্রস্তরে
নশ্বর ছায়া পড়ে তার..


মৃত্যুর তীক্ষ্ণ নখ বিঁধে গ্যাছে
আজ অক্ষরের গায়ে

রাতের সন্ত্রাসে–
সহসা বাজে বুঝি ট্রাম্পেট
বর্ণবিদ্বেষের গোলাবারুদ আর
থেকে থেকে লাফিয়ে ওঠে
যুক্তিবাদী তুরুপের তাস

পথ জুড়ে পড়ে থাকে
রক্ত রঞ্জিত ক্রুশ


এই ধ্বস্ত দৃশ্যের আড়ালে
তবু হঠাৎ কেন
আলো জ্বলে এমন
যেনবা চতুর লুব্ধক এক
যেন এতদিন আমাদের
প্ররোচিত করেছিল রঙিন বৃষ্টিফাঁদ

একটি বিস্বাদ আপেল
ভেদ করে উঠে আসে
তেমন মোহন সব সুর

তারপর আবার সমবেত সকাল
যৌথ সেলাইদিন মুখরিত হয়
হাতের চেটো গলে
পিলপিল নেমে যায় কাঠপিঁপড়ের দল…

নভেম্বর/২০