মোহাম্মদ কামরুজ্জামান এর ছড়া


ছোট হোক বড় হোক দুইটা ডিমই চাই


সকাল-বিকাল দুইটা করে ডিম কি পাড়া বারণ?
পোল্ট্রি মফিজ পায় না ভেবে ডিম না পাড়ার কারণ।
আসলে কি মুরগিগুলোর স্বভাব বড়ো বাজে,
আহ্লাদেতে বাড় বেড়েছে মন বসে না কাজে।
মুরগিগুলোর সাথে পেল বদ ছেলেদের মিল ও,
তাই ওদেরকে আচ্ছামতো ধমক দিয়ে দিল,
‘কালকে থেকে দুইটা করে ডিম পাড়বি সবাই
নইলে পরে গুলি করব, বটি দিয়ে জবাই!
ডিম না পেড়ে সারাটা দিন গল্পগুজব চলে!
এত এত দানাপানি—যাচ্ছে সবই জলে!
জানিস্ তোরা, চালের আগার কত টাকা কেজি?
দেখি নাই আর মুরগি কোনো তোদের মতো লেজি!’

ধমক খেয়ে মুরগিগুলো ডিম পাড়ছে কষে,
কক্ কক্ কক্ করে উঠছে ডিমের উপর বসে।
দেখছে মফিজ সব কটাকে তুলে তুলে ধরে,
বডির নিচে ডিম রয়েছে দুটো-তিনটে করে।
শেষেরটাকে তুলতে গিয়েই উঠল আবার চটে—
‘ডিম পেড়েছিস্ কোন সাহসে ফের একটা মোটে?
ঘাড়ে ক’টা মাথা আছে—আমায় কিনা চটাস্?
সোজা হয়ে দাঁড়া দেখি, করব গুলি—ফটাস্।
মালিবাগে বেচব তোকে পলিব্যাগে ভরে,
ট্রাক চালকদের পেটে যাবি—সুখ পাবি না মরে—
ধমক খেয়েও যখন কিনা সারল না তোর ও রোগ!’
জবাব দিল ওই বেচারা, ‘হুজুর, আমি মোরগ।’



ছড়ার ব্যাপারীর পেঁয়াজের খবর


একশ টাকা হয়ে গেছে তিরিশ টাকার পেঁয়াজ,
মলি আপুর ধরাছোঁয়ার বাইরে গেছে সে আজ।
তাই বলে ছাই রান্নাপাকা বন্ধ করে আপু?—
‘পেঁয়াজ ছাড়াই রাঁধব সবই ভেবেছ কী, বাপু!
পেঁয়াজি বা দোপেঁয়াজা, পেঁয়াজকলি ভাজা,
ডাল, খিচুড়ি, শুঁটকি, সিঁদল, গোরুভুনা—যা-যা
পেঁয়াজ ছাড়া পানসে লাগে, হয় না মোটে স্বাদই
যাও দেখে যাও, পেঁয়াজ ছাড়াই কেমন করে রাঁধি।’

কোর্মা-পোলাও রেঁধে আপু দাওয়াত দিল সোজা,
দাঁত মেজে সেন্ট মাখিয়ে গায়ে পরে জুতা মোজা,
ফুলবাবু দুই প্রতিবেশী—আমি এবং নাজির
মিষ্টি নিয়ে মলি আপু’র বাসায় গিয়ে হাজির।

নিচ্ছি এটা, নিচ্ছি ওটা, তুলছি দুজন মুখে,
গিলছি কি না—তা জানি না, চাবাচ্ছিলাম সুখে।
আপু বলে, ‘রান্না আমার কোনটা কেমন হলো?’
বলল নাজির খেতে খেতে হয়ে গেছে ঢোল ও।
এমন সাধের রান্না নাকি প্রথম খেল সে আজ,
বোঝাই গেল না যে ওতে মিসিং আছে পেঁয়াজ।
বউকে গিয়ে রান্না করা শিখিয়ে দেবে আজই,
সবচে’ ভালো লেগেছে তার আলুর কড়া ভাজি।
শুনেই আপুর মুখ কালো হয়, ধমকে ওঠে বেজায়,
অমনি নাজির গেলাস ফেলে পায়জামাটা ভেজায়।
‘হতচ্ছাড়া! কাঠবিড়ালি!’ চ্যাঁচায় আপু জোরে
‘পাতিশেয়াল! বুনোবিড়াল! শিম্পাঞ্জি! ওরে!
আলু ভাজি পেলি কোথায়? ভাগ্ এখনি, যা-যা!
ওটা আমার বেরেস্তা যে—পেঁয়াজ ছাড়া ভাজা।
অমন সাধের বেরেস্তা তুই আলু ভেবে খেলি!
কই দেখি তুই কী এনেছিস্, আপুর বাসায় এলি।’
আমি তখন প্যাকেটখানা এগিয়ে দিলাম হাতে,
মলি আপুর গরম মাথা শীতল হলো তাতে।

মিষ্টি মুখে দিয়েই আপুর মুখ হয়ে যায় বাঁকা,
সারামুখে মনে হলো ৫-নম্বর আঁকা।
চোখ দুটো তার গোল হয়ে যায়, কান দুটো যায় ঝুলে,
একটু হলেই আমাকে সে আছাড় মারে তুলে—
‘কী এনেছিস্ আমার ঘরে, হতচ্ছাড়া পাজি!
মাগনা এসে দাওয়াত খাওয়া ছুটিয়ে দেব আজই!
এটা কোনো মিষ্টি হলো—আটার গোলার মতো!’
চড়-ই বোধ হয় দিয়ে বসে, করছে ইতস্তত।

নাজির বলে, ‘পেঁয়াজ ছাড়া বেরেস্তা হয় যদি,
বরফ ছাড়া মালাই এবং পানি ছাড়া নদী।
চিনি ছাড়া মিষ্টি হলে কিই বা এমন ক্ষতি?
চিনির দামও একটুখানি বেড়েছে সম্প্রতি।’



বায়োলজি বনাম ফিজিক্স


পজিটিভ হলো আবু করোনার টেস্টে,
ডাক্তার বলে দিলো, ‘থাকো গিয়ে রেস্টে।’
বললেই রেস্ট নেওয়া যায় নাকি?—যায় না,
যার ভয়ে কাঁপে ওই আমেরিকা চায়না,
তাকে নিয়ে শুয়ে থাকা নয় অত সস্তা,
লাশে লাশে ভরে গেছে চার লাখ বস্তা।
ভয় হয় এই বুঝি ওঠে শ্বাসকষ্ট,
ছ্যাদা হয়ে ফুসফুস হয়ে যায় নষ্ট;
গলা বুঝি ব্যথা করে হাঁচি কাশি চাপলে,
জ্বর যেন কত হয় জিব তুলে মাপলে।

মনে তবু আশা রাখে—পজিটিভ খুব সে,
এখনও সে পুরোপুরি যায় নাই চুপসে।
টেস্টেও আজকাল হয় নাকি ঘাপলা,
একবার বাঘ ওঠে একবার শাপলা।
হতে পারে ভুল হয়ে গেছে তার টেস্টটা,
ভালো কিছু পেতে হলে করা লাগে চেষ্টা—
আবু বলে, ‘ডাক্তার, ফের ব্লাড নিন তো,
দান দান দুই দান—হই নিশ্চিন্ত।’

একই টেস্ট, একই ব্লাড, একই দেহ অঙ্গ,
ফলাফল দুরকম—বোঝো কত রঙ্গ!
তাই দেখে আবু মিঞা মারে জোরে লম্ফ,
লোকে ভাবে হলো বুঝি মৃদু ভূমিকম্প।
নেহি কুচ পরোয়া বা ভয়ভীতি লোককে,
লাফাতে লাফাতে ছোটে আপনার লক্ষে।
কেউ বলে উম্মাদ, কেউ বলে পাগলা,
কেউ বলে দড়ি বেঁধে এ ব্যাটাকে আগলা।
তছনছ করে বুঝি সব বাধাবিঘ্ন,
প্রতিবেশী যারা ছিলো হলো উদ্বিগ্ন,
‘কী হলো কী হলো, ভাই, কেন তুমি নাচছ?
বকনের মতো শুনি কেন বা চেঁচাচ্ছ?’
আবু বলে, ‘নেগেটিভ এসেছে রেজাল্টা,
এইবার বুঝি ফেটে যায় এ কপালটা।’
প্রতিবেশী অতি বেশি অভিনয় জানত,
বলল, ‘সে ভালো কথা। হও, বাবা, শান্ত।’
আবু বলে, ‘যা পেয়েছি হয়ে গেল লস তা।
শান্ত কি হব, আগে মরে হব বস্তা।
আগে ছিল পজিটিভ—কী হবে সেটার যে?
গোলমাল হয়ে গেলো শরীরের চার্জে।
নেগেটিভ পজেটিভ হলো একই অঙ্গে,
তাই নিয়ে আপ্লুত—নাচি তাই ঢঙ্গে!
মহাসুখে চিল্লাই—নেই আর কাজ তো!
বার্স্ট হয়ে গেলে আমি থাকব কি আস্ত?