মোহাম্মদ নূরুল হকের তিনটি কবিতা



রাত সিরিজ-১

আকাশ জুড়ে মেঘের অভিমান
তারারা সব তোমার চুলের মালা
চাঁদের বুকে ঢেউ খেলে কোন নদী
প্রেমে-কামে সাজায় বরণ ডালা?

আমাকে যে জাগিয়ে রাখে রাত
ও মেঘ মেয়ে, তার কি বলো নাম
সেকি আমার বুকের বামের ব্যথা
অন্ধরাতের কান্না অবিরাম?

নদীর বুকে যেমন ভাঙে ঢেউ
জোয়ার ভাটায় জাগে অনুক্ষণ
তেমনি প্রিয়, তোমার নামের জিকির
নিত্য করে আমার অবুঝ মন।


রাত সিরিজ-২

যখন আর কবিতা লিখতে পারিনা তখন খুব একা লাগে
মনে হয় ডুবে যাচ্ছি নিশিগন্ধা সুদূর পাতালে
আর প্রেতলোকে প্রেতনীদের নাচ শুনি মগজে মগজে
একটি নীল হরিণ ছুটে যায় বনের গহীনে
কামরাঙ্গা পাখিগুলো অবিকল প্রিয় রমনীর মতো গান গায়।

এই দৃশ্য কষ্ট দেয় ক্রমাগত আমাকে ভীষণ
বিকলাঙ্গ মেঘেরাও দুঃখ পায়, তারারাও রাত জাগে আমার সঙ্গে।
আর পূর্ণ চাঁদে দৃষ্টি রাখে এই জন্মান্ধ বাউল।
আহারে রাতের ভুল, কেন তবে অবেলায় জাগালি শরীর?

ভালোবেসে যদি ডাকে ভরা নদী, আমি যাই কামগন্ধা বেহুলার কাছে
যাই রাত জাগা নারীর বাসরে।
বেহুলার ঘরে দেখি, লাল লাল রক্তজবা ভাসে
চারিদিকে বয়ে যাচ্ছে তুমুল জোয়ার-লালরাত-হলুদআন্ধার।


অবজ্ঞা

একটি তারা ওই যে জ্বলে—ডোবে
একটি তারা একলা ভীষণ পোড়ে
নীল—আকাশের তাতে কী যায় আসে
তবুও দেখো একলা শালিখ ওড়ে;

পুড়ুক তারা, পুড়ুক হৃদয় কবির
তোমার তাতে কীই—বা আসে যায়
ভাঙুক কবির একলা হৃদয়—পুড়ুক
বিরান রাতে তোমার প্রতীক্ষায়!

একলা রাতে জাগে কবি, জাগে
আর জাগে ওই দূর আকাশের চাঁদ
তবুও তুমি গভীর ঘুমে থাকো
সমস্ত রাত কবির মরণ ফাঁদ।

কবি পুড়ুক, কবি মরুক তবে
তোমার তাতে কীই—বা আসে যায়
কবি সেতো পাগল প্রেমিক শুধু
ধুলায় কতই গড়াগড়ি খায়!