আমার মৃত্যুর দিনে ও অন্যান্য ॥ মোহাম্মদ নূরুল হক


আমার মৃত্যুর দিনে

আরও যাদের মৃত্যু হয়েছে অনেক কাল আগে
তাদের রক্তের স্বাদ পেয়েছিল মাটির হাঙর?
অথবা আকাশে যারা উড়ে গিয়ে তারা হয়ে গেছে,
তাদের হাতের তালু খসখসে কাগজের মতো
গ্লাসভর্তি সন্ধ্যা খেয়ে হয়ে গেছে বেহেড মাতাল!

আমারও চিরকাল সে রকম ইচ্ছের বাগানে
ঘুরে ঘুরে উড়ে উড়ে মরে যেতে স্বাদ জাগে খুব
অনন্তপুরের পথে হলুদ আন্ধার কেটে কেটে
একদিন ছাই হয়ে যাবো তার ঘৃণার আগুনে!

ঘৃণা খুব ভালোবাসি আজন্ম মৃত্যুর প্রিয়া ভেবে
ঘৃণা খুব ভালোবাসি অগণন পাতা ঝরে গেলে
ঘৃণা ভালোবাসি, তাই চিরকাল শত্রু পুষে রাখি
দুধকলা দিয়ে তারে বাঁচাই যতনে।

হৃদয়েরে বলি শুধু: এ জীবন ব্যর্থ চিরকাল।
তবু প্রেম বড় নয়, পতঙ্গের জীবনের চেয়ে।
পুনর্জন্ম পাই যদি একদিন পতঙ্গ স্বভাবে
উড়ে উড়ে পৃথিবীকে শোনাবো ডানার সংগীত।

আমার মৃত্যুর দিনে দূর মাঠে বাজবে যে বাঁশি
এখনো ঘুমের ঘোরে সেই প্রিয় সুর ভালোবাসি।

রাত সিরিজ-১

আকাশজুড়ে মেঘের অভিমান
তারারা সব তোমার চুলের মালা
চাঁদের বুকে ঢেউ খেলে কোন নদী
প্রেমে-কামে সাজায় বরণডালা?

আমাকে যে জাগিয়ে রাখে রাত
ও মেঘ মেয়ে, তার কী বলো নাম
সে কি আমার বুকের বামের ব্যথা
অন্ধরাতের কান্না অভিরাম?

নদীর বুকে যেমন ভাঙে ঢেউ
জোয়ার ভাটায় জাগে অনুক্ষণ
তেমনি প্রিয়, তোমার নামের জিকির
নিত্য করে আমার অবুঝ মন।

আমার বাংলাদেশ

আমার বাংলাদেশ—ধর্ষিতার মতো আজ কাঁদছ অঝোর
নাকে-মুখে হায়েনার নখের আঁচড়!
হাওয়ায়-হাওয়ায় উড়ছে তোমার চুল—আগুনে পুড়ছে
ওই হাত—গাঢ় নীল শাড়ির আঁচল, তবু তুমি নির্বিকার!

তবু তুমি নির্বিকার—চেয়ে আছ স্থির হাওয়ার টেবিলে
চেয়ে দ্যাখো—সারি-সারি সেলাইকরা মুখ। দ্যাখো-দ্যাখো—
চাপাতির নিচে ভয়ে কাঁপে জাতির বিবেক!

আমার বাংলাদেশ! সবর বরণ দেশ—দ্যাখো, চেয়ে দ্যাখো—
দ্যাখো দানবের হাতে—রোদ্দুরে দুপুরে চাপাতিরা চমকায়
চারিদিকে সন্ত্রস্ত মানুষ!
আহা! মানুষের ভিড়ে, কার স্বামী ভেসে যায়—রক্তের গঙ্গায়
দ্যাখো—দ্যাখো আজ কোন মায়ের চোখ নদী হয়ে যায়!

শোনো দানবের উল্লাসে-গমকে
চমকে উঠেছে রাত—রাজপথে ওই নামে ভয়াল আন্ধার!
আস্থাহীন মানুষেরা পিঁপড়ের মতো দলে-দলে
মিছিলে শামিল! দ্যাখো—
মঞ্চে দাঁড়িয়ে গণ্ডার—শোকার্ত বাবাকে দেয় গালি!