মড়কের ভিড় ঠেলে হেঁটে যাই ও অন্যান্য ॥ অনু ইসলাম



মড়কের ভিড় ঠেলে হেঁটে যাই


মৃত্যুফুলে ভরে যাচ্ছে চারিপাশ; চোখজোড়া নির্বাক।
কোনো কোনো চোখে অবশ্য আর্তনাদের ঢেউ
কোনো কোনো চোখে বেঁচে থাকার তীব্র বিস্ময়।

সময় নেমে যাচ্ছে—
গোধূলির অনন্ত সন্ন্যাস যাপনের ভিড়ে
কোনো কোনো জীবন দাঁড়িয়ে আছে কৌতূহলবশত
কোনো কোনো জীবন আহত হয়ে আছে ব্যাধির মত

পৃথিবী উন্মুখ হলে সোনালুফুলের রঙে হেসে উঠবে—
স্বল্পায়ু এ জীবন।

এসো, মড়কের ভিড় ঠেলে সম্মুখে হেঁটে যাই; প্রত্যাশা উড়াই৷


জীবন এক রঙিন ঘোড়া


প্রত্যুষে, একঝাঁক পাখিদের মৃদু কোলাহল

দিনের শেষে; কৃতজ্ঞ চিত্তে জেগে থাকে প্রীতি ও সম্ভাষণ—
এবং কৃষ্ণচূড়া রঙের মুহূর্ত৷ ছত্রিশটি নতুন পাপড়ি
—ডানা এঁকেছে আকাশে

জীবন— এক রঙিন ঘোড়া; ছুটে চলে কাগজের পৃথিবীতে।
লাল পায়ে-নীল পায়ে;
পাঁজরে তার স্বপ্ন আঁকা—
মাথায় রঙিন মুকুট
— জম্পেস এক দৌড়

বেলাশেষে— ছুটির ঘন্টা অপেক্ষমাণ।


কুশীলব

পরিক্রমা ভেঙে এসে দাঁড়িয়েছি প্রত্যুষের আলোয়—
গোলাপি রঙের তাপ বিচ্ছুরণের মতো ছুটে ছুটে পড়ছে
এই আলো পৃথিবীকে দিগন্ত দেখায়; দিগন্ত পথে ছুটে চলে
সামগ্রিক মানবজীবন। জীবন— তার গতির কুশীলব।

গতিহীন জীবন বেদনার; বেদনার ফসিল অঙ্কুরে ঝরে যায়
সময়ের গ্যাঁড়াকলে থেমে যায় বহমান জীবন।

জীবন— উঠে আসে আঁতুরঘরের স্বপ্ন যাপনদিনের মহড়ায়
নেচে খেলে; একান্ত স্বভাবের মতো নিজস্ব চেতনায়।

জীবন জানে; ঢেউ ভেঙে ভেঙে তটে ফেরার মাজেজা
এবং পাড় ভাঙা যন্ত্রণার বিষণ্ণরকম গল্পরাগ।

দেখছি, প্রত্যুষের আলোয় রঙিন দুয়ার সবই খুলে যাচ্ছে
হে জীবন, কৌশলে জেগে থাকো আপন আলোর রূপরেখায়৷
কেননা— জীবন, তার গতির কুশীলব।