যাদু আর বাস্তবের গল্প ॥ সোনালী ইসলাম



সে এক অনেককাল আগের কিংবা পরের কথা, এই কথাটা জানতেন আমাদের প্রমাতামহীরা আর তাদেরও প্রমাতামহীরা অথবা জানবে আমাদের তিনশ চারশ বা হাজার বছর পরের প্রজন্ম, কারণ কে জানলো সেটা আদি তথ্য নয়, কি জানলো সেটা নিয়েই এই গল্প।

রূপকথার মতো যদি বলি তবে বলছি, একছিল এক দেশ, গোলা ভরা ধান, পুকুর ভরা মাছ, মৌচাক ভরা মধু, গোয়াল ভরা গরু।

সেদেশের মানুষেরা গাছ পাখি পশুদের ভালোবাসে, গাছ থেকে ফল পেকে মাটিতে পড়লে পরে তুলে খায়, গাছের গায়ে আঘাত করে না। বুনো লতা পথ আগলে ধরলে তারা নতুন পথে হাঁটে, কিন্তু লতা ছিঁড়ে পথ পরিস্কার করে না।

তারা সবাই একটু আলগোছে অগোছালো থাকে। পেলে খেলো না পেলে নাই। তাদের অলসও বলতে পারো, ভাবুকও বলতে পারো কিংবা বলতে পারো দার্শনিক। তারা কোন নামেই আপত্তি করবে না।

সেদেশের একঘরে জন্ম নিলো এক ফুটফুটে কন্যা। রূপ তার বলার নয়, শোনার নয়, রূপকথাতেই জানা যায়। কন্যা বড় হয় আর রূপে লক্ষ্মী গুণে সরস্বতী দেখা দেয়। কন্যার বাবা মা আথালিপাথালি করে, কোথায় রাখবে এই কন্যা, কার ঘরে দেবে। সব চাইতে বড় ভয়, যদি কন্যা হারিয়ে যায়।

মা তাই ডাকে, যাদু মানিক যাদু আমার কই
বাপে তাই হাঁকে, আমার যাদু কইরে?

তা, কন্যার নাম হয়ে গেল যাদু। রূপের যাদু গুণের যাদু। যাদুর গায়ের রঙ দেখে দীঘির পদ্ম লজ্জা পায়, চোখ তুলে তাকালে ভোমরা ফুলের আড়ালে লুকায়। যাদুর মেঘবরণ কেশ মাটিতে লুটায়।

গাঁও বুড়া একদিন যাদুর বাবাকে ডেকে বলে, শোন গো ভালোমানুষের পো, তোমার যাদুকে তো বিয়ে দিতে হবে, তাই না?
-তাতো দিতেই হবে কাকা, কন্যারতন তো পরের ধণ, বুকে আগলে রাখি যতক্ষণ।
-তোমায় তাইলে আমাদের ধর্মের কথা দর্শনের কথা স্মরণ করিয়ে দেই। বুঝলেতো, আমরা হচ্ছি স্বপ্ন জগতের কল্পলোকের বাসিন্দা। হুই দূর নীল পাহাড় পর্যন্ত আমাদের সীমানা। কন্যাকে তুমি এর মধ্যেই রেখ। পাহাড় যেন না পেরুয়। পাহাড়ের ওপারে কাঠিন্য রাজত্ব। সেখানে যেন না যায়।
-সে কি করে যাবে? সেতো অনেক দূর।
-বাছা, ধর্মে বলে মাঝেমধ্যে এমন দূর হঠাৎ নিকট হয়ে যায়, তখন নেমে আসে বিপদ। আগে থেকেই সাবধান থাকো। ধর্মে চলো, নিয়মে থাকো। মেয়েকে নিরাপদে রাখো। জানোতো, ধর্মের কথা কখনোই মিথ্যা নয়। আর সেই কথা লেখা আছে পবিত্র পাতায়। আমরা যা মান্য করে চলেছি পরম্পরায়।

যাদুর বাবা বাড়ি ফেরে এক আজলা দুশ্চিন্তা নিয়ে। এ পর্যন্ত কখনো এক ফোঁটাও দুশ্চিন্তা ছিলো না তার। থাকবেই বা কেন? সারাজীবন নিয়ম মেনে চলেছে। ফল পাকুড় দুধ মধু খেয়ে দিন গুজরান করেছে। এমন ভয়ের কথা কখনো তো বলেনি গাঁও বুড়ো।

যাদু দাওয়ায় বসে চম্পাকলির মালা গাঁথছিলো। আর গুনগুনিয়ে গাইছিলো এক অজানা সুরের গান।

বুকের মধ্যে হাহাকার করে উঠল যাদুর বাবার। আহারে, কি অপরূপ সুন্দরী তার কন্যা। এই কন্যার জন্য সাজানো থাক সর্বমঙ্গল ঘট। কোন বিপদ যেন ছায়া না ফেলে যাদুর গায়ে।

২.
নীল পাহাড়ের অন্যপাশে ছিল আর একটা দেশ। তার নামই কাঠিন্য দেশ। তাহলেই বোঝা যায় দেশটা আর দেশের মানুষগুলো কেমন।

প্রত্যেকেই ভীষণ কেজো আর কঠিন।

তারা স্বপ্ন দেখে না।
কাজ করে।
তারা গল্প করে না
মিটিং করে।
তারা গান শোনে না
কবিতা পড়ে না
ছবি আঁকে না
তাদের সব কিছুই অংক দিয়ে যোগবিয়োগ করা।
তাদের সব কিছুই মেপে চলা বুঝে হাঁটা।

তারা খাদ্য উৎপাদন করে, জীবন উন্নয়ন করে, চারিদিকে শুধু কাজ আর কাজ।

তাদের কোন বন নেই বৃক্ষ নেই লতা নেই ফুল পাখি ভ্রমর নেই।
আছে শুধু বড় বড় ইমারত আর দালান। সেই দালানেও নেই কোন চিত্র আঁকা। ইমারতের সামনে নেই কোন গাছ। এক ইঞ্চি জমিও তারা নষ্ট করে না। সবই কেজো সবাই কাজের।

তারা জীবনে সেটুকুই রাখে যেটুকু কাজের আর রাখে খুবই গুছিয়ে।
যেমন ধর, চাঁদের আলোর জোছনাটুকু শুষে নিয়ে তারা নাইট ল্যাম্পে ভরে রাখে। প্রজাপতির পাখার রঙ কাজে লাগায় পোষাক শিল্পে।

এমন একটা দেশের একটা চারকোনা কাটখোট্টা বাড়িতে জন্ম নিলো একটা বুদ্ধিমান ছেলে। কাঠিন্য দেশে কখনো বোকা বা আলাভোলা ছেলেরা জন্মাতো না। নিয়ম নেই। তাই এই ছেলেটাও খুব বুদ্ধিমান আর চালাক। সে জন্মেই প্রথমে যে কথাটি বলেছিলো, তা পরে বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে সেটা ফিবোনাচ্চির সূত্রাবলীর অন্তর্নিহিত ব্যাখ্যা।
তাহলেই বোঝা গেল, এই ছেলেটি ভবিষ্যতে দেশের জন্য অনেক কিছু করবে।

মা আর বাবা তার নাম রাখল ‘বাস্তব’।

গণিত আর যুক্তিবিদ্যা শিখল সে প্রি-স্কুলে। তারপর শিখতে লাগল উন্নত গণিত পদার্থবিজ্ঞান আর রসায়ন। পাই সাই ল্যামডা থিটা অথবা ই ইকুয়াল্টু এমসি স্কয়ার ছাড়া কোন আলোচনায় অংশগ্রহণ করত না বাস্তব। সে ভেবে রেখেছিলো, মহাকাশবিদ্যার মহাপণ্ডিত হয়ে সে কৃষ্ণ গহব্বরের রহস্য ভেদ করবে।

এমন একটা জ্ঞানী পুত্রের জনক-জননী হতে পেরে তার বাবা-মা অবশ্যই অতিমাত্রায় গর্বিত ছিলো। যদিও বাস্তবের সাথে তাদের অন্যকোন মানবিক সম্পর্ক যেমন স্নেহ আদর ভালোবাসার কোন প্রকাশ ছিলো না।

কারণ এমন অকারণ অযাচিত অনুভূতিগুলিকে কাঠিন্য দেশের মানুষেরা ভুলে গিয়েছিলো বহু যুগ আগেই। সে দেশের মানুষেরা অনুভূতি হিসেবে জানতো শুধুই অহংকার গর্ব আর ঈর্ষা।

সে যাই হোক, তাতে আর আমাদের কি। যে দেশের নিয়ম যেমন তারা তেমনই।

কিন্তু বাস্তবের পিতা মাতাকে একদিন ডেকে পাঠালেন নগরপাল।

বললেন, শোন তোমরা। আমার হিসেব বলছে তোমাদের পুত্র বাস্তব অতি শীঘ্রই এক দুর্দান্ত দুর্গতিতে পড়তে যাচ্ছে। আমার আদেশ, তোমরা সাবধান হয়ে যাও।
– কেমন করে, হে নগরপিতা। আপনিই বলে দিন।
– সে যে বিষয়ে গবেষণা করছে তাতে সময়ের কঠিন বন্ধন হয়তো ছিন্ন হয়ে যাবে। নীলপাহাড়ের ওই পাশে যে মায়া জগৎ আছে সেই জগতে সে প্রবিষ্ট করবে। লোপ পাবে তার সকল বিচার যুক্তি বুদ্ধি। আর তা, আমাদের এই জগতের জন্য ভয়াবহ। তাই বলে রাখছি, নজর রেখ সাবধানে রেখ তোমাদের পুত্র বাস্তবকে।
-যথাআজ্ঞা হে নগরপিতা। আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করব।

বাসায় ফিরে আসতে আসতে চিন্তিত পিতা-মাতা গম্ভীর হয়ে গেলেন।

সময়ের কঠিন বন্ধন তো আন্তর্জাতিক সীমারেখা। এটা পার হওয়া অসম্ভব। কেউ যে পেরেছে তা ইতিহাসে লেখা নেই। তবুও নগরপালের এমন আশংকায় উৎকণ্ঠিত হলেন তারা।

৩.

যাদুর মা আর বাবা যাদুকে বলেছেন গাঁওবুড়োর কথা। বারেবারে সতর্ক করেছেন সে যেন কোনমতেই চেনা পথ আর চেনা বাগান ছাড়া আর কোত্থাও না যায়। বলেছেন পবিত্র লেখনি আর দর্শনের কথা নিয়মের কথা।

যাদু তাঁদের কথা দিয়েছে যে সে অবশ্যই সাবধানে থাকবে। পোষা খরগোশ আর হরিণের সাথেই শুধু খেলা করবে কুঞ্জবনে। আর নাইতে যাবে পদ্মদীঘির জলে। এর বাইরে আর কোত্থাও যাবে না সে।

যাদুর বাবা বলেছেন, আমিই তোমার জন্য ফল কুড়িয়ে আনব মা, আর মধু সংগ্রহ করব, তোমার মা দুধ এনে দেবেন তোমার জন্য। তুমি আমাদের নজরের আড়াল হয়ো না কখনো।

যাদু লক্ষ্মী মেয়ে। সে কোথাও যাবে না আর। কিন্তু মনের মধ্যে একটা কৌতুহল উথাল-পাথাল করে। কি আছে সেই অজানা দেশে কেমন সেই ‘কাঠিন্য দেশ’।
সেখানে কি আকাশ এমনতর ঘন নীল?
নদী এমন নাচের ছন্দে বয়ে যায়?
কুঞ্জবনে মৌমাছি গুঞ্জরায়?
যদি যাওয়া যেতো একবার সেই অচেনা দেশে। এটাতো মানুষেরই আদিম ধর্ম। যা কিছু নিষিদ্ধ তাইই আকর্ষণীয়।

যাদুর সখিরা বলে, গাঁও বুড়োর যতো আজব ব্যাখ্যান। আমাদের পিতা প্রপিতামহরা বিনা প্রশ্নে তাদের কথা মেনে চলেছেন। কিন্তু কই গাঁও বুড়া তো কখনো পবিত্র পত্র আমাদের স্পর্শ করতেও দেয়নি। আমরা নিজেরা জানিই না আসলে তাতে কি লেখা আছে। শুধুই মান্য করে চলেছি। পবিত্র গৃহের পবিত্র সিন্দুকে রাখা সেই পত্র কেউ কি নিজের চোখে দেখেছে?

যাদু বলে, না দেখুক না জানুক তবু মান্য করতে হয়। এটাই শিক্ষা এটাই রীতি। আমি মান্য করে চলতে চাই। বিদ্রোহের ফল সবসময় ভালো নাও তো হতে পারে।

সখিরা চলে যায়।
যাদু কুঞ্জ বনে আপন মনে গুনগুনিয়ে গান গায়। পবিত্র পত্রের আইনে তার গতিবিধি আটকে যায়। তবুও পরম্পরা ভঙ্গ করার দুঃসাহস করে না সে।

কিন্তু, কাঠিন্য দেশের বাবা-মা যখন বাস্তবকে আদেশ দেয় শৃংখলা ভঙ্গ না করার, বাস্তব মুখে কিছু না বললেও বিরক্ত হয়। সে গণিতের ছাত্র বিজ্ঞানে পণ্ডিত, তার পক্ষে এমন আদেশ মানা কষ্টকর। আর তাছাড়া সে পরীক্ষা করছেই তো সময়ের আন্তর্জাতিক বন্ধন ছিন্ন করার। এখন নগরপিতার এমন আদেশ মানতে কি করে রাজি হবে সে?

তার পাঠভবনের ছাত্ররা কেউ বলে, হয়তো নিয়ম ভাঙা ঠিক নয়। আআন্তর্জাতিক সময় সীমা লঙ্ঘন করার দরকারই বা কি। বেশতো নিয়ম মেনে চলছে ছক বাঁধা জীবন এটাকে মেনে নেওয়াই কি ভালো নয়।

আবার কেউ বলে, প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম যদি ছক বন্দি হয়ে থাকে তাহলে নতুন কিছু আসবে কি ভাবে? আর নগরপিতা যে নিয়মের কথা বলছেন সেই নিয়ম কোথায় লিখিত আছে, তার ব্যাখ্যা কই? আমরা কি শুধুমাত্র নিয়ম মানা পুতুল। কে বানালো তবে এই চাপিয়ে দেয়া অজানা নিয়ম?

বাস্তবের পছন্দ হলো অন্য বন্ধুদের কথা। সত্যই তো কেউ তো জানে না সেই নিয়মাবলী কে কিভাবে কেন রচনা করেছেন। সকলেই শুধু মেনে নিয়েছে, ব্যাখ্যা দাবী করেনি। জানতে চায়নি কেনই বা ‘সময়’ অলঙ্ঘনীয়?
সময় কেন এতো কঠিন?
সময় কে কি তরল বা বায়বীয় করা যায় না?

যায় না সকল আন্তর্জাতিক দূরত্ব অতিক্রম করা?

বাস্তব ভেবে নিলো সে তার নিজস্ব পথেই চলবে। নগরপিতার এঁকে দেয়া পথে কখনোই নয়।

দেখা যাক না কি দুর্যোগ আসে।

৪.

যাদু সেই ছায়ামায়ার দেশে বড়দের কথা শুনে চুপটি করে কুঞ্জবনে বসে চম্পাকলির মালা গাঁথে আর পদ্মদীঘির জলে ভাসিয়ে দেয়। মনে মনে বলে,
মনের জ্বালা ফুলের মালা
যাও ভেসে যাও জলে
আর পারিনা সইতে বাঁধা
আসুক বিপদ চলে।

প্রতিটি মালা ঢেউয়ের দোলায় হারিয়ে গেলে ধীর পায়ে কন্যা ঘরে ফেরে।
ওদিকে বাস্তব তো খুব ব্যস্ত তার নতুন এক্সপেরিমেন্ট নিয়ে। নাওয়া খাওয়ার সময় নেই ঘুম তো দুর। সে কম্পিউটারে বসে শুধু অংক করে আর সুত্র লেখে।

সময়ের বাধা সে দূর করবেই। এই কঠিন আবরণের বাইরের জগৎ কেমন সেটাই সে জানতে চায়। কেমন প্রাণী বাস করে সেই জগতে? তাছাড়া আবহমান কাল থেকে চলে আসা কঠিন নিষেধাজ্ঞা তাকে আরও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ করে তোলে। কেন এই নিষেধ? স্বাধীন মানুষ কেন স্বাধীন ভাবে কাজ করতে পারবে না। যতদিন না এইসব প্রশ্নের উত্তর পাবে ততোদিন ধরে সে কাজ করেই যাবে।

মনে হয় তার হাইটেক কম্পিউটারে কোন ভাইরাস আক্রমণ করেছে। তাই প্রায়ই স্ক্রিন সেভারের মতো ভেসে আসে একটা দীঘির জলে ভাসা ফুলের মালা। আর অজানা একটা গুনগুন সুর।
যেহেতু বাস্তব কখনো ফুল দেখেনি গান শোনেনি তাই বুঝতে পারে না সেটা কি জিনিস। কিন্তু সেই সুর শুনলে তার মস্তিষ্কের নিউরনে আরাম বোধ হয়। ফুলের মালাটা দেখতে ভালো লাগে। তাই বাস্তব ভাইরাসটাকে সরিয়ে দেয়নি। যখন কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে যায় তখুনি সে শোনে সেই অচেনা গুঞ্জন।

ওদিকে যাদুর বাবা-মা ভীত হলেও লক্ষ্মী কন্যা যাদু তাদের কথামতো চলে বলে খুব নিশ্চিন্তেই থাকে। তারা জানে, পবিত্র পত্রের নিয়ম অনুযায়ী চললে অদৃশ্য শক্তি তাদের রক্ষা করবেন। তাই প্রতি মুহুর্তে তারা পবিত্র পত্র স্মরণ করে আর ক্ষমাভিক্ষা করে অজানা পাপের।

কিন্তু বাস্তবের বাবা মা খুবই দুশ্চিন্তায় আছেন। বাস্তব যে তাদের কথা না শুনে নিজের কাজ করে যাচ্ছে এটা নগরপিতা তাদের জানিয়েছেন। এবং এটাও বলেছেন যে নিয়মবহির্ভূত কাজ করার জন্য বাস্তবের কঠিন শাস্তির ব্যাবস্থা করা হবে। সে যতই জ্ঞানী হোক না কেন, সমাজে থাকতে হলে প্রচলিত নিয়মের মধ্যেই তাকে থাকতে হবে।
নিময় ভাঙলে ভেঙে পড়বে পুরো সমাজপুরো সিস্টেম। সেটা হতে দেয়া যায় না।

বাস্তবের বাবা মা ভেবে পান না কি করবেন।

বাস্তবের ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা জানে যে বাস্তবের এক্সপেরিমেন্ট প্রায় শেষের পথে। কিছু দিন বা সময়ের মধ্যেই সে ভেঙ্গে ফেলবে সময়ের কঠিন আবরণ। বন্ধুরা উত্তেজনা নিয়ে অপেক্ষা করছে। আসলে তারাও এই অকারণ প্রাচীণ নিয়মের নিগড়ে বন্দি হয়ে থাকতে চায় না। বাস্তব যদি বিদ্রোহ করে তাহলে তারাও থাকবে বাস্তবের সাথে।

এমনি ভাবে একদিন, বাস্তব কম্পিউটার এর সামনে থেকে উঠে দাঁড়ালো।
তার মুখে মৃদু হাসি।

সে তার ব্যাকপ্যাক নিয়ে হেঁটেই চলল শহর ছেড়ে প্রান্তর পেরিয়ে নীলপাহাড়ের দিকে। তার এতোদিনের গবেষণার প্র্যাক্টিকাল এক্সপেরিমেন্ট করতে হলে একটা নির্জন জায়গার দরকার।

হাঁটতে হাঁটতে যায় বাস্তব আর গুনগুন করে সেই অজানা সুর। এতোদিন ধরে শুনতে শুনতে সুরটা তার মনে গেঁথে গেছে।

যাদু যখন চম্পাকলির মালা গাঁথছিলো বাস্তব তখন এসে পৌঁছালো নীলপাহাড়ের প্রান্তে।

৫.

বাস্তব হাঁটতে হাঁটতে এসে পৌঁছালো নীলপাহাড়ের প্রান্তে। কেমন যেন ছায়ামায়া যায়গা সেটা। নির্জন, শুনশান। এমন যায়গাতেই বাস্তব তার পরীক্ষা করবে বলে ভাবলো।

বাস্তব ব্যাকপ্যাক থেকে বের করলো তার কম্পিউটার। শুরু করল কাজকরা। বাস্তবের কাজের সাথে সাথে ঘনিয়ে আসতে লাগলো কুয়াশার মতো আবরণ। তার চারিদিকে তৈরি হলো অণুকনার আলোড়ন। বাস্তবের মাথা ঝিমঝিম করে উঠল। দৃষ্টি হলো অস্বচ্ছ। তার সমস্ত শরীরে কম্পন আর অজানা আতংক।

ওদিকে যাদু বসেছিলো কুঞ্জবলে। চম্পাকলির মালাটি হাতে নিয়ে। তখনও সেটা ভাসায়নি পদ্মদীঘির জলে। আজকে যাদুর মনে শুধুই আথালিপাথালি। কোকিলের কুহু ডাকে মনটা হু হু করে ওঠে। এমন বন্দিজীবন আর ভালো লাগে না যাদুর।

আজ সে লোধ্ররেণু মেখেছে মুখে,
চোখে এঁকেছে তেল কাজলের রেখা,
চুলে দিয়েছে অগরু চন্দনের ধোঁয়া।
গলায় পরেছে কুর্চি ফুলের গোড়ে মালা,

সখিরা দেখে বলেছে, আহারে, এমন রূপ কন্যার দেখার কেউ নেইকো।
শুনে মন খারাপ হয়েছে যাদুর। তারও তো সাজতে শখ হয়। কিন্তু কি করবে সে? গাঁও বুড়োর কথা শোনার পর দেশের সব তরুণেরা তাকে এড়িয়ে চলে, সম্ভ্রম করে, কাছে আসার সাহস পায় না। তবে কি যাদু আজীবন একাই থাকবে। আপন করে পাবে না কাউকেই?

মনখারাপ করে যাদু তাই বসেছিলো কুঞ্জবনে। ভাবছিলো কে আছে সেই নীলপাহাড়ের ওপারে, যার ভয়ে ভীত বাবা-মা? যদি দেখতে পেতো একবার।

এমনটা ভাবতে ভাবতে পল অনুপল কাটে সময়ের হিসেব থাকে না। যাদু খেয়াল করে না তার চারপাশ ঘিরে আঁধার ঘনিয়ে এসেছে কুয়াশার বৃত্ত। শব্দহীন এক জগৎ।

কোকিলের কুহুতান
ময়ুরের কেকাধ্বনি
ভ্রমরের গুঞ্জন
সবই যেন থেমে গেছে এক লহমায়।

সেই অজানা কুয়াশার অচেনা অন্ধকার থেকে বের হয়ে আসে এক বিস্ময় তরুণ।

তার পোষাক অন্যরকম
তার পেশীবহুল শরীর
তার কোমল কঠোর দৃষ্টি

তরুণ অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করে, তুমি কে?

যাদু কেঁপে ওঠে থরথরিয়ে। ভয়ে শুকিয়ে যায় মুখ। শুধু বলতে পারে, আমি যাদু।
-এটা কোন জায়গা?
যাদু যেন সাহস ফিরে পায়, বলে,
-এতো আমার দেশ, ছায়ামায়ার স্বপ্নপুরী।
-অহ্, এটার কথাই বলেছিলেন নগরপাল।

-আর তুমি তাহলে কে? অচেনা মানুষ?
-আমি কাঠিন্য দেশের বাস্তব।
যাদু আবার ভয় পায়। এই দেশের কথাই কি বলেছিলো গাঁওবুড়ো?

যাদু পালাতে যায়, ফিরতে চায় চেনা বাড়ির আঙ্গিনায়। ফিরতে চায় মায়ের কোলে বাবার কাছে। কিন্তু পথ ঢেকে গেছে দুর্লঙ্ঘ আঁধারে। নজর চলে না। পা সরে না।

বাস্তব তাকিয়ে দেখে যাদুর হাতে চম্পাকলির মালা, এই মালা সে চেনে।
বাস্তব তখন গেয়ে ওঠে যাদুর গাওয়া সেই অজানা সুরের গান।
আসলে বাস্তব যাদুকে সাহস দিতে চাইছিলো। সে চাইছিলো যাদু ভয় না পেয়ে তার সাথে কথা বলুক।

এদিকে হয়েছে কি, প্রেমের দেবতা কিউপিড তাঁর তীর ধনুক নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন। মনমতো কোন তরুণ-তরুণীকে পাচ্ছিলেন না যাকে তিনি প্রেমের তীরে বিদ্ধ করতে পারেন।

তিনি গোলাপি মেঘের ভেলায় চড়ে যেতে যেতে দেখলেন বাস্তব আর যাদুকে।
তীর আর ধনুক হাতে তুলে নিলেন তিনি।

৬.

কিউপিড যে একটু খ্যাপাটে দেবতা সে সবাই জানে। কাজে অকাজে, অবসরে, যাকে-তাকে তীর ছুঁড়ে ঘায়েল করাই হচ্ছে তার কাজ। কিউপিডের কারণে কত জনে যে যুক্তিহীন প্রেমে পড়ে বিপদগ্রস্ত হয়েছে তা আর বলার না।

কিউপিডের তীরের আঘাতে মানুষ ভুলে যায়,সমাজ সংসার। পিতামাতার ভালোবাসা। জীবন মৃত্যুর ভয়।
তারপর প্রেমিক-প্রেমিকা চলতে শুরু করে অজানা পথে, অচেনা জগতে। কপাল ভালো হলে তারা আনন্দে সুন্দর জীবন যাপন করতে পারে আর কপাল খারাপ হলে, সে কথা বলার নয়, জানার নয়।
বিশ্ববিখ্যাত ট্রাজেডিগুলোতেই তার বর্ণনা পাওয়া যায়। ভাগ্যিস আজকালকার ছেলেপুলেরা কিউপিডকে দেবতা বলে তেমন মান্য করে না, তাই আর প্রেমের কষ্টও তাদের ভোগ করতে হয় না।

তা সে যাকগে, আমি বলছিলাম যাদু আর বাস্তবের গল্প। তারা দুজনে যেহেতু পবিত্র পত্র আর কাঠিন্য নিয়ম পালনের কথা জানতো আর খানিকটা হলেও বিশ্বাস করতো, তাই কিউপিডের তীরের আঘাতে তারা দুজনেই সমানভাবে আহত হলো। তাদের বুদ্ধি গেলো ঘুলিয়ে।
যাদু ভুলে গেলো তার স্নেহময় পিতা আর মমতাময়ী মাকে। ভুলে গেল সঙ্গী সই আর গাঁওবুড়োকে ।
এমনকি তার শিরিষ গাছের ছায়ায় ঝুমকো লতা লতিয়ে ওঠা ছবির মতন মাটি নিকোনো কুটিরের কথাও মনে রইলো না। মনে রইল না তার প্রিয় হরিণ ছানা কাঠবিড়ালি আর খরগোশের কথাও।

শুধু মনে হলো এই তরুণটি যদি হারিয়ে যায় তাহলে যাদু আর কিছুতেই বেঁচে থাকতে পারবে না। মনে হলো এতোদিন চম্পাকলির মালা গেঁথেছিলো এই তরুণের জন্যই।

আর বাস্তবের সকল বাস্তব বুদ্ধি, ফিবোনাচ্চি রাশিমালা, কম্পিউটারের সুত্র, ই ইকুয়াল্টু এম সি স্কয়ার সবই গেলো হারিয়ে। তার মনে হলো এই কিশোরীটিকে না পেলে তার সকল পড়াশোনা বৃথা, এমনকি তার জীবনই বৃথা। এক্কেবারে বুদ্ধিহীন অবস্থা যাকে বলে।

এদিকে কিন্তু সময়ের গতিপথ বদলে যাচ্ছে। বাস্তবের কব্জিতে বাঁধা ঘড়ির কাঁটা উল্টো দিকে ঘুরতে শুরু করেছে। সে বুঝতে পারছে এখনই কিছু করতে হবে।
এখনই,
ভাবার সময় নেই
চিন্তার ক্ষণ নেই
দেরী করলে চিরতরে হারিয়ে যাবে এই প্রিয়তমা কিশোরী।
হারিয়ে যাবে তার গুঞ্জন গুন গুন গান
মিলিয়ে যাবে চম্পাকলি মালার সুবাস।

কিছু একটা করতেই হবে আর সেটা এখুনি… এক্ষুনি
বাস্তব এগিয়ে এসে দুহাতে জড়িয়ে ধরলো যাদুকে।
কানের কাছে ফিসফিস করে বলল,
-আমি জানিনা তুমি কে? তুমি কি তুমি কেমন। তুমিও জানোনা আমাকে। কিন্তু আমাকে বিশ্বাস করে আমার সাথে যাবে? তোমাকে ছাড়া আমি যে বাঁচব না।

যাদু তরুণের বুকে মুখ রেখে থরথর করে কেঁপে উঠে বলল, আমাকে ছেড়ে চলে যেওনা তুমি।

৭.

তো, হলো কি, বাস্তব একহাতে যাদুকে জড়িয়ে ধরে ঘড়ির বোতাম দিলো টিপে। সে তাকিয়ে ছিল যাদুর মায়াবী চোখের দিকে তাই খেয়াল করেনি কোন সময়ের স্তরে গিয়ে পৌঁছাবে। গাঢ় কুয়াশা মিলিয়ে গেল বটে কিন্তু হারিয়ে গেল যাদু আর বাস্তব। তারা না থাকলো ছায়ামায়ার দেশে, না পৌঁছালো কাঠিন্য দেশে।

যাদুর বাবা-মা কুয়াশা ঘূর্ণিঝড়ের পরে খুঁজতে এসে দেখে কুঞ্জবনে পড়ে আছে চম্পাকলির মালাটি কিন্তু কন্যে নেই। তারা কেঁদেকেটে ছুটে গেল গাঁও বুড়োর কাছে। বুড়ো মাথা নেড়ে বলল, এতো আমি আগেই বলেছিলাম। তোমরা সাবধান হওনি কেনো? পবিত্র পত্রের লিখন অভ্রান্ত, তা কোনদিন মিথ্যে হতে পারে না।
আর বাস্তবের মা-বাবা গেল নগরপালের কাছে বিচার চাইতে। তিনি খুব রেগে বললেন, তোমাদের কি আমি সাবধান করিনি? তোমাদের ছেলে প্রাচীন আইন ভঙ্গ করেছে। শুধু তাইই না সে ভেঙে ফেলেছে সময়ের আন্তর্জাতিক সীমারেখা। তাকে খুঁজে পেলে, অবশ্যই আমি আনব আইনের আওতায়।

ওদিকে বাস্তবের পরীক্ষা-নীরিক্ষার ফলে সময়ের আন্তর্জাতিক সীমারেখা গেছে ভেঙে। তাই ছায়ামায়ার দেশের মানুষ দেখতে শুনতে পারছে কাঠিন্য দেশের লোকজনকে। তারা একে অপরকে দোষারোপ শুরু করেছে। যুদ্ধ লাগে প্রায়।

নারদ ঠাকুর ঢেঁকিতে চড়ে একবার এদেশে এসে বলে, লেগে যা লেগে যা।
আবার অন্যদেশে যেয়ে বলে, লেগে যা লেগে যা।
নারদের মন্ত্রণায় দুদেশের লোকজন কাছাকোঁচা বাগিয়ে, ‘নারদ নারদ’ বলে তৈরি।
গাঁওবুড়ো আর নগরপাল বললে, নাহ। এমন অরাজকতা চলতে দেয়া যায় না ।
এইয়ো, থামো তোমরা থামো।
চিৎকার চেঁচামেচি করে আর মারামারি করে কোন মিমাংসা হবে না।
তার চাইতে তোমরা সবাই চলো নীলপাহাড়ের মাথায়, প্রাচীনতম ত্রিকালদর্শী জ্ঞানী গরুড় পক্ষীর কাছে। তিনি জানেন সকল ইতিহাস। একমাত্র তিনিই বলতে পারবেন, এই অবস্থায় আমাদের কি করা উচিৎ।

তা সবাই তাদের কথা মান্য করলে। না করেই বা উপায় কি? ছায়ামায়া দেশের সবচাইতে রূপসী কন্যা আর কাঠিন্য দেশের সবচাইতে মেধাবী পুত্রকে হারিয়ে ফেলা তো সহজ কাজ না, তাইনা?

সবাই মিলে গেল নীলপাহাড়ের প্রান্তে। এতো মানুষ একসাথে দেখে আর তাদের ডাকাডাকি শুনে গুহা থেকে ধীরেধীরে বের হয়ে এলেন অতি প্রাচীন ত্রিকালদর্শী জ্ঞানী গরুড় পক্ষী।
বললেন, কি হয়েছে? এতোদিন পর তোমাদের কি জ্ঞানের প্রয়োজন?
– হে জ্ঞানী গরুড়, আমাদের বিপদ, বুদ্ধি দিন, রক্ষা করুন।

যাদুর মা-বাবা তো কেঁদেই আকুল।
বাস্তবের মা-বাবার চোখেও পানি দেখা যায় যায় আর কি, মানে তারা আগে কখনো কাঁদেনি তো। দুঃখ নামক অনুভূতির সাথে পরিচয় নেই।
তা সে যাকগে, গাঁও বুড়ো আর নগরপাল বললে, হে মহান জ্ঞানী। বাস্তব ছেলেটি সময়ের আন্তর্জাতিক সীমারেখা ভেঙে ফেলেছে। এখন আমাদের কি কর্তব্য তা যদি বলে দিতেন।

গরুড় পক্ষী বললেন, শোন তোমরা, সে অনেক অনেক কাল আগের কথা। তোমাদের দুই দেশের মধ্যে কোন সীমানা ছিল না। একই পরম পিতার দুই পুত্র সন্তান ছিলো। একজন বীর অন্যজন ধীর। দুই সন্তানের মধ্যে কোন মিল ছিল না। সৌহার্দ্যও ছিল না। তাই পরমপিতা ঠিক করলেন দুইজনকে দুই জগতে পাঠিয়ে দিতে হবে। তাহলে, পরবর্তী বংশধর নিরাপদে থাকবে। না হলে হানাহানি মারামারি করে শেষ হয়ে যাবে না।
পরমপিতা ছিলেন অতিপ্রাজ্ঞ। তাই তিনি দুই রকম নিয়ম লিখলেন, যা কিন্তু আসলে একই। একটা লিখলেন প্রাচীন পত্রে একটা লিখলেন নীতিমালা বইতে। তারপর ধীর পুত্রের হাতে দিলেন প্রাচীন পত্র আর বীর পুত্রের হাতে দিলেন নীতিমালা।
আর, এঁকে দিলেন সময়ের আন্তর্জাতিক সীমারেখা। যাতে তোমরা কেউ কাউকে দেখতে বা মিশতে না পার। তার প্রাচীন পত্র আর নীতিমালার বই কিন্তু একই কথা বলছে। তোমরা সময়ের ব্যাবধানের কারণে তা বুঝে উঠতে পারছ না।

বাস্তব এই সীমারেখা ভেঙে ফেলেছে। ক্ষতি কি। তোমরা আসলে তো একে অপরের ভাই, জ্ঞাতিকুল। মিলামিশে থাক।

যাদুর মা জানতে চাইলেন, হে মহাত্মা, আমার যাদু তাহলে কোথায় হারিয়ে গেলো? সে তো কোন দেশেই নেই।

জ্ঞানী গরুড় পক্ষী বললেন, তাড়াহুড়ো করে সময় অতিক্রম করেছে বাস্তব আর যাদু। তারা পৌঁছে গেছে উনিশ শ পঞ্চাশ সালে, সে অনেক ভবিষ্যতে নাকি প্রাচীন অতীতে তা আঁক কষে দেখতে হবে। কিন্তু তারা ভালো আছে।
সেইসময়কার লেখক শিল্পী সাহিত্যিক কবিরা তাদের বরণ করে নিয়েছেন।
তোমরা দুঃখ করো না, নতুন এক শিল্পবোধের জন্ম দিয়েছে যাদু। তার নাম ‘জাদুবাস্তবতা’। জাদুবাস্তবতা নিয়ে উপন্যাস লিখছেন মার্কেজ নামের এক লেখক, ছবি আঁকছেন ফ্রিদা কাহ্লো। আর সেই সব লেখা আর ছবিতে চিরজীবন অমর হয়ে যাচ্ছে যাদু আর বাস্তব ।
দুঃখ করো না।
মনে রেখ, তোমরা প্রত্যেকেই একে অপরের ভাই, তাই ভিন্নমতের মনে করে একে অপরকে আঘাত করো না। মিলেমিশে থাক। ঈর্ষা হিংসা ত্যাগ কর। পরম পিতা তাইই চেয়েছিলেন।

এতো কথা বলে বৃদ্ধ প্রাচীন জ্ঞানী গরুড় আবার ঢুকে গেলেন নীল পাহাড়ের গুহায়।

তাঁকে আরও অনেককাল অনেক কাল বেঁচে থাকতে হবে। যখনই মানুষেরা মারামারি হানাহানি শুরু করবে তখন সুবুদ্ধিসম্পন্ন গাঁও বুড়োরা আসবে তাঁর কাছে।

তিনি আবারও বলবেন, তোমরা একই পিতার সন্তান। যুদ্ধ করো না। শান্ত হও। এই পৃথিবীটাকে আরও অনেক কাল বসবাসযোগ্য করে রাখ।

আমার গল্প ফুরালো
নটে গাছটি মুড়ালো।