যে কবিতা আমাকে লিখে নেয় ॥ বঙ্গ রাখাল



কে আমি?
যেদিন মায়ের জরায়ু ভেদ করে আসি-বাবাকে দেখিয়ে দাই বলল-নিন আপনার সন্তান

বাবা জানলো আমি তারই সন্তান

একদিন বাবা শূন্য দেখায়
বলে ঐ যে- মাথার উপর শূন্য ওটি আকাশ
আর ঐ যে- শূন্য গিয়ে মাটিতে মিশেছে ওটি দিগন্ত
আমি আকাশ চিনি, দিগন্ত চিনি…বংশপরিচয় জানি, জানি নিজের সংবিধান…

বাবাকে প্রপিতামহ চিনিয়েছে-এ ভাবেই আমরা বিশ্বাস করে নিয়েছি…

২.
কত চোখের ভাষা, ঠোঁটের গন্ধ, কত প্রেমাসক্ত মৌনতা
এক পরিচিত ক্রোধ, নারীকে নিশ্চিহ্ন করার মনবাসনায়…
নারী স্পর্শে বিষাক্ত লালায় জারিত হয়ে-গলে ওঠে পেট-গড়িয়ে পড়ে জল।

পদচিহ্ন-এদিক ওদিক ছোটাছুটি করে
পড়ে থাকা শশার অবশিষ্টাংশ
সিগারেটের ফিল্টার, শাড়ীর আঁচল-ভালোবাসার শেষ চিহ্ন

নিউরন তিলে তিলে খায় স্মৃতি…ছুটে চলি ক্লীবজীবনে রেখে আশা হতাহত বালিকা ঋণ।

৩.
ভাঙ্গেনি পৃথিবীর রাতঘুম-এ রাতের আড়ালেই
জন্ম নেয় যত সব জারজ-ক্ষুধিত পৃথিবীর কোটরে
হাঁচড়ে পড়ে বুকফাটা বেদনামানুষ…মানুষেরও কল্পনা বড় সীমিত যেমন তুমি আমাকে-
আমিও তোমায়-লিখে চলি আমাদের হারানো সময়ের- অতীত বিনিময়।

৪.
ধানের ফুলে
ধানঘ্রাণ
দূর্বা ঘাস মাথা বাড়ায়
কাকে বড় দেখায়

মৃত্তিকা একটু বড় হলেই-আকাশ ছোঁয়া যায়।

৫.
নিরুদ্দেশ যাত্রাভিড়ে-শ্রয়হীন শ্যেন ভুলেছে আকাশ

নিমখুন বাঙ্গালির নাদাননৃপ-শুষে নেয় দেহের খনিজ…

দ্বিধার একান্ত নির্জন নিলয়ে- পিতার গাছপাথর -জন্মকথার অযথা আবেদন।

৬.
জমেনি প্রেম পাললিক দেহে
না হাঁটা পথে পুষ্প, পত্র, বৃক্ষবাঁকল

কালোচাদরে মোড়া চাঁদ-ঠিকরে বের হয় জহর

প্রস্তর যুগের পাথর হতে-খসে পড়ে বন্ধুর কৃষ্ণনাভী ফসিল।

৭.
আমি একা, শুধু একা
বাঁশবনে স্বপনের ঘোরে
নিজেকে হারাই প্রতিক্ষণে…

নিঃসঙ্গতা আমার বুকের কান্না-কাঁঠাল বৃক্ষের হলুদপত্র
হৃদয়জমিন পার হয়- তেজি ক্ষত-বিক্ষত ঘোড়া

লাঙ্গলের ফলায় উঠে আসে-লোনা জলের ঘ্রাণ…


৮.
কিছু সময় আগে পেয়েছি
আমার পোষা তুষোবুড়োর মৃত্যু খবর
মায়ের মৃত্যু- বাবার চিৎকার দিয়ে ঝরা-চোখে আমার নীল হওয়া পৃথিবী।

চাঁদবর্ষায় ডুবে যায়-শৈশবের হাঁতড়ে মরাদিন…এ যেন বড় বেশি ঋণ।

৯.
জলমানব ফেরি করে রাতের ওড়না জড়ানো ভোর
গোধূলির সময় মুঠোফোনে বার্তা পাঠায় ফ্যাকাশে বাতাস।

ফেরেনি জলমানব-জলপাখির মৃত্যুতে শোকার্তনদী…

১০.
ঘুঙুর পরা দিন পার করে তৃষ্ণার্ত সকাল
কবর শয্যায় নাস্তিক ঘুমিয়ে-চুম্বন দেয় দেবীদের ওষ্ঠে

মানিক মিয়া এভিনিউ-পতিতার পানসে ঠোঁট-পেটুকের লালায়- কফিনে মোড়ানে কফিহাউস।

ঘামঝরায় সকালের মাছ ধরা বক…

১১.
এখানে নিমকথার আড্ডা বসত
পথ পার হলেই কৃষ্ণদার বাড়ি…

সে পা হারা
মুক্তির নেশায়
নিমকষ্টে শানবাঁধা বুক….

১২.
ভাঙ্গেনি পৃথিবীর রাতঘুম-পটবন্ধ্যায় সেফটিপিনভোর
খচিত হয় নক্ষত্রে-নোনাজল পার করা ঘোর…

আমি অথবা রবীন্দ্রনাথ- সারারাত কয়েকটা কবিতা পড়েছি-বাবু সাহেব
গাঁটটির দরজা খুঁলে মশারী টানিয়ে নিলেন- রাতে…