রনি বর্মন এর কবিতা

আয়না ঘড়ি

সময় দেখতে গিয়ে আমি বারবার
ঘড়ি দেখি। ঘড়ির কাছে গেলে আয়না।
আয়নায় আমি তোমাকে দেখি,
আয়নায় আমি সোমাকে দেখি,
আয়নায় আমি বাঘ দেখি,
আয়নায় আমার বিড়ালকে দেখি না!

২.
আয়না-ঘড়িতে যখন হৃদয়টা বাজলো
বিড়ালটা বাজতে তখনও কয়েক বছর বাকি।

আমি অপেক্ষায় থাকলাম বিড়ালটার।

অপেক্ষায় আমার সামনের দুটো দাঁত
বড় হতে থাকলো:

বড় হতে হতে দাঁতগুলো আমার হাঁ বরাবর চলে আসছিলো!
হাঁ বন্ধ করার জন্য আমরা সবাই মিলে ক্ষয়যজ্ঞ করলাম।
যজ্ঞের ক্ষয় করতে করতে আমার চোয়াল ও চাপার মাড়ি শূন্য হলো।

আমি বিড়ালটার অপেক্ষায় থাকলাম;
আয়না-ঘড়িতে তখনও হৃদয়টা বাজে।


৩.
আয়না-ঘড়ি এবার,
একটি হাত হৃদয়টা ধরে রেখে অন্য হাতে বানরটা ছুঁয়ে দিলো
আরেকটা পা ছেড়ে দিলো ছুটন্ত হরিণটার পেছনে।

একবার হরিণটার পেছনে পা দৌড়ায়
আবার, পয়ের পেছনে হরিণ।

আয়না-ঘড়ির রঙিন পর্দায় তখন-
মৃগ ও মায়ার হরেক টেলিকাস্ট,
দেখতে-দেখতে আমারও অনুমানে বোধে করি…
চোখে অন্ধকার

৪.
এক সময় আয়না-ঘড়ি হৃদয়টা ছেড়ে দিয়ে,
বিড়ালটার কাছে পৌছলো।
আমার পোড়া চোখ, কেবল কালো-বিড়ালটার
চোখের আলো ছাড়া কিছুই দেখতে পাচ্ছিলাম না।
মুখ ধুতে গিয়ে,
বিড়াল বিষ্ঠায় ছেয়ে ফেললাম সমস্ত শরীর।

আয়না-ঘড়িতে আমার বিড়ালটা
আমাকেই বললো মিঞাও!!


চলমান

যেভাব ঘটনাবলীর সূত্রপাত;
সুবোধ সকালের মাথায় ভর করে পাংশুটে মেঘের মহড়া
নির্বিচারে বাতাসে গড়াগড়ি দিতে দিতে দুরন্ত কণিকারা ছুটে চলে মাঠে-
মাঠের ওপারে পরে থাকে সাদা শাড়ি ও বকের ডানা।

আপাতত, প্রেমিক মন পাণ করে নেয় সীমান্তের ধূলিঝড়।
শীতের সন্ধ্যাকালীন আলিঙ্গনে ধারালো হয় বিকেল চোরা চোখ-
চোখের কোণায় পূর্ণতা পায় ধুপকাঠির রঙ-
সে রঙে আঁকা হয় স্নান ঘরের আলপনা
জলের ভেতরে ছাপা হয় কলের গান।

এখনও কী তুমি জীবন পড় মোমবাতি জ্বেলে,
যখন কেউ ঘুমিয়ে পড়ে দুধের পসরা মেলে।


সমুদ্র সম্পদ

ওহে ঋতুমতী মেঘ,
জানিনা তোমার বুক পকেটে
কতটুকু আর্দ্রতা লুকিয়ে থাকে;
কতটা শূন্যতা নিয়ে পাড়ি দাও
আশ্বিনযাত্রার অকুল পাথার।

তবু, তোমারই তত্বাবধানে রেখে যাই-
জোয়ার-ভাটার জোছনা স্নানে
তুলে আনা কমল টানে
এক জনমের অনেক প্রেমে
অর্জিত সব-
সৃষ্টি প্রিয় খুব যতনের
সমুদ্র সম্পদ।