লতিফ জোয়ার্দারের তিনটি কবিতা

কৃতদাস

যা কিছু দেবার ছিলো। নিতে না পারার ব্যর্থতা নিয়ে বেঁচে আছি।
জীবনের সহজতম পঙক্তির ভিতর। এভাবেই মাছ জীবন। এভাবেই
গাছ জীবন। আর এভাবেই শস্যজীবন আমাদের হয়ে যায়। বৃত্তের
ভিতর থেকে লড়াই। বৃত্তের বাহির থেকে সংগ্রাম। সেই যে যুদ্ধ জয়ের
ইতিহাস নিয়ে পৃথিবীতে এসেছিলাম। স্বপ্ন ফেরি করে দেখেছি এখানে
আমিত্ব বলে কিছু নেই। এখানে আমরা কৃতদাস। মহাজনের কৃত্বিতের
বাইরে আমাদের কোনো ইচ্ছে নেই। অতঃপর আদিম আর্যগণ যেমন
শিলালিপিতে নিজেদের অস্তিত্ব এঁেকছিলো। আমরা পরম্পরায় শস্যবীজ।
নতুন সৃষ্টির জন্য আমরা মৃত্যুর কাছে আমাদের নতুন ঠিকানা খুঁজি।


অতিক্রম

একদিন আমি আমাকে অতিক্রম করবো ভেবে
অবিরত দৌড়াতে থাকি। কত শতাব্দী চলে যায়।
নতুন ইতিহাস লেখা হয় বারাবার। কত সভ্যতা
বিলিন হয়। সিন্ধু থেকে উত্তর আফ্রিকা আমাজান
থেকে নীল নদ। কোথায় যায়নি আমি। এত এত
পথ পেরিয়ে এসে দেখি। আমি এখনও আমার
ছায়ার ভিতরে হারিয়ে আছি।


যন্ত্রণা ও একজন হলুদ হিমু

এ কেমন মুগ্ধতা আমার। এ কেমন চেতনার রাজদৃপ্তি
আজকাল চোখ মেলে তাকালেই হলুদের সমারহ দেখি।
সবুজ প্রান্তর দেখে মনে হয় এ যে হলুদ সরিষা খেত ।
কখনও কখনও মনে হয় আকাশে হলুদ মেঘ ঝুলে আছে
কেউ কেউ অবশ্য সিঁদুরে আমরঙের সাথে তুলনা করে
হলুদ মেঘের। কিন্তু হলুদের বাইরে কোনো রঙ চোখে
পড়ে না আমার। এ আমার চোখের ভ্রম হতে পারে।
সে কারণে বারবার চোখে ডাক্তার দেখিয়েছি আমি। ইট
পাথরের এই শহরে দেওয়া ঝুলানো অক্ষরপত্র পড়ি আমি
কীভাবে একবিন্দু হলুদ অবিরত ছড়িয়ে পড়ছে পৃথিবীময়।
চাশমার পাওয়ার বাড়িয়ে ঘরে ফিরে আসি আমি। হলুদ
হিমুর মত হয়তো আমারও একজন বন্ধু ছিলো। যে হয়তো
যন্ত্রণা ও হলুদ হিমুর জনক। এখন সবাই তাকে কবি বলে।