শঙ্খ আসেনি ও অন্যান্য ॥ মামুন মুস্তাফা



শঙ্খ আসেনি

শঙ্খ আসেনি
এখানে তালতাল নিরন্ন সমাচার
রুদ্র পাশবিকতা খেলছে নিয়তি
ভাঙনের গাঢ় রসদ সাজিয়ে
পথে পথে নহবৎ
হাওয়ার ওড়াউড়ি।

শঙ্খ আসবে না জানি
অক্সিজেনের মাধুরী দিয়ে
শয্যা পাতা…
আগামীকাল সেই অন্ত্যেষ্টি।

নিষিদ্ধ নারী

তোমার আঁচলে এখন নিষিদ্ধ নারীর ঠোঁটের ভাপ
গণিকালয়ের ভিত ফুঁড়ে উঠেছে দুধশাদা ভাঁটফুল
আর শোনো লম্পট হাওয়ার পদধ্বনি আলপথে
পথ থেকে আলিসায়-আলিসা থেকে-আঃ!
সারাদিন উপোসী শ্মশানবন্ধু খুঁড়িয়ে চলেছে,
ভ্যালা রে নাগর।
দরজার চৌকাঠে সংসারী বউয়ের ছবি,
আর তার স্তনদুটি টাটিয়ে উঠেছে অপত্য পিপাসায়।


বীজমন্ত্র

ভোগবৈরাগ্যে বাঁধা দেহ মজে পরনারী শরীরে
কে সেই অসূর্যম্পশ্যা?
পরকীয়া পথে পথ চলে লতাসাপ হয়ে।
কুট কুট কেটে চলে নিবিড় বসতি,
দেহনাশ…কুলটাসময়… পচনশীল মাটি
কার কাছে কে শোধে রক্তঋণ?

পারে না ধুলোবালি সংসার নিমগ্ন হতে
জাতশিশু হামাগুড়ি দ্যায় দক্ষিণা পাবে বলে।
রগচটা বাতাস…হাওয়ার ওড়াউড়ি…বিরান জমি
চিতার আগুন ডাকে সোহাগী ঢঙে, আয়…আয়…
তারও আগে মাটিচাপা পড়েছে বীজমন্ত্র।


শাদা কবুতরের নির্যাস

আমরা কী কখনো গিয়েছি নাভির তলদেশে?
নাভিমূল খুঁড়ে জেনেছি কি রাতের যন্ত্রণা কতটুকু?
ফিরিয়ে দিতে পারিনি তো আজও
মৌলিদির সমতল সংসার।

একদা আমাদের বহুবচণীয় সংসারে লেগেছিলো
পাখপাখালির অসম্ভব তূর্য, তাকে গাঢ়
করে তুলেছিলো এক বধিরের খেপ।
তখন মৌলিদির আঁচলে বোনা রাত্রির সতো
ছিঁড়ে ছিঁড়ে বনেদি বউয়ের পালঙ্কে জন্মেছিলো
শাদা কবুতরের নির্যাস।
আজ অজস্র পণ্যের হাটে গোপন পথে বিকিয়ে
দিয়েছি সব। শাদা কেশরের ঘোড়া তীক্ষ্ণ খুরের
শব্দে উড়িয়ে নিয়েছে অবশিষ্ট ঊর্ণাজাল;

এর…পরেও আমরা ক্রমাগত সূর্যহীনতায় ডুবেছি।