শিবলী মোকতাদির এর কবিতা


নুন

দানযোগ্য এক দয়ালের হাতে
বেশ কিছু মৎস্য ও মুদ্রা তুলে দিয়ে বললাম-
যাও ফুটিয়ে খাও।

শুনে সে হাসে।
সেনাপতির সংলাপ শেষে যাত্রবাহিত
বিলকুল সেই হাসি।

কালের দিকে বেঁকে যায় তালগাছ
আমি আর তুমি
এইসব হাসান্ন কেবলই দেখি আর আঁকি।

যেন অবাক হই, এই ভেবে বলে-
ওরে, নুন না দিলে পড়ে যাবি গুণের প্রশ্নে ফাঁকি!


শরতবালা

দূরে- কালো মেয়েটির দেশে
অন্ধকারে একা একটি গাছ
চাঁদের বিরহে একটানা কেঁদেছিল
দেখেছে সেজন ঘণ্টা চার-পাঁচ।

জোনাকিরা দিলো এই শোকে ঝাঁপ
মৃত্যুর মিছিলে ওঠা আর নামা
কুমারীর বুকে লজ্জা ঢাকতে শেষে
নেমে এলো ডোরাকাটা নীল জামা।

পাঠাল উন্মাদ কোষের কারুভাষে
তোমার জন্য শব্দের নীরবতা
মেঘের গায়ে মুদ্রিত হল মেঘ
বলছে মানুষ মুখস্থ সেই কথা।

হয়তো তাকে জাপটে ধরেছিল
দুই নয়, শত শত জোড়া হাত
একটি গাছের বিষণ্নতা রুখে দিতে
জাগালে শরৎ বৃষ্টির ধারাপাত।



কসাই কল্যাণ সমিতি

সে-এক নিবিড় প্রজাতি। সংঘবদ্ধ। বসন্তের মতো দেখেছি অভিধায়
ঝরে পড়া পাতার প্রহেলিকা মাত্র। মিথ্যার মাথায় বসে;
কালো কালো কোকিলের মন্ত্রে ডেকে যায়।

ঘুমিয়ে পড়া সরল কলোনি এক। নিত্যদিনের মতো নম্র। অসহায়।
তারা পুত্র মতে ক্ষীণ গাধা, পশু ও পাষণ্ডকলায়;
তারা কদলীবালার ছায়ে ভক্তিতে ভগবান।
রক্তে-রাতুলে করেছে প্রমাণ।

অথচ এ-জানায় আতঙ্ক। এ-দেখা কল্যাণের। সুর শ্যামলের।
ফলে সবকিছু ধারা আর উচ্ছেদগত।
বেলাতে বিলীন ফের।

তবুও একজন, যাকে তুমি তিল থেকে তাল করো।
সীমার নিচুতে রেখে ভনিতায় ভরো।
আর সমীকরণের মতো পরীক্ষার ছাত্র তুমি- নিজস্ব ইয়াছিন
তোমার পিতা কী জানে হত্যা করিতে?
কী জানে সন্ধানে? মূলত শহরের শেষ প্রান্তে করো বাস
ঢেকে আজ কেশের লজ্জায় মুখখানি কী করে দেখাবে বারোমাস!