শোনো বৃষ্টি, পাখিডানা ভোর ও অন্যান্য ॥ এমরান হাসান



শোনো বৃষ্টি, পাখিডানা ভোর


খসে গেছে কবে কোন চিরায়ত গানের কফিন?
মরে যাওয়া অন্ধকারের গভীরতা বুকে জেগে থাকে চিঠির সুঘ্রান।

কই দ্যাখো নিশ্চুপ মায়বী আলো,পারিপার্শ্ব ভোর?
উন্মাতাল জলের মিছিলে মাতাল মাছের বেশে ফিরে যায় ধূসর শৈশব।
রোদের প্রার্থনায় শুয়ে থাকা ধুলো-দৃশ্য,
করুণ স্কেচ তুলে নিয়ে আদিম ঝোলায়;
ফিরে যায় মধ্যরাত, কালের হরকরা।

কে যেন শেখায় অচেনা শহরের পথশিল্প, নিখুঁত মানচিত্র
পলল ভূমির মতোন মিহি-নিশ্চুপ ছয়িলিপি
কিম্ভুত উদ্ধৃতি পাঠে মন্ত্রমুগ্ধ রোদ-তন্দ্রা শোভিত উন্মত্ত অঙ্গার।

অক্ষরের লৌকিক অন্ধপথে কে আর ফেরাবে প্রস্থান?
শোনো বৃষ্টি,অনন্ত গহনের নামে প্রচ্ছন্ন সংসার।




সমস্ত যুগের সম্মাননা

সত্য বলতে চাই আজ, নির্জলা সত্য।

যারা আমায় সত্য বলা শিখিয়েছেন,
সময়ের নিয়মে তাদের আবিষ্কার করেছি বোবা, বধির, তন্দ্রাচ্ছন্ন ও ব্যর্থ দাবাড়ু রূপে।
সামন্তবাদী সৈন্যের দোলাচালের শেষ সায়াহ্ণে
ঘোড়া-চালের আড়াই ঘর তারা দিব্যি ভুল মেরে বসে আছেন।
রোদের তেজ বাড়তে থাকলে এসব আবিস্কৃত হতে থাকে।
চোখের সামনে নাচতে থাকে পিথাগোরাস, নগ্ন আর্কিমিডিস
কিংবা সময়ের প্রয়োজনে বীতশ্রদ্ধ ভ্যানগগ।

সত্যি সত্য বলে কিছু নেই।
যা আছে নদীজল আর স্বচ্ছ হাওয়ার বিটকেলে বেতাল নৃত্যে উধাও হওয়া সেইসব আশ্চর্য কথা।
লিখে আর লাভ কি?
এ যাত্রার উল্টোরথের বয়ানে সমগ্র অসত্য জেনেছে পাথর-প্লাবন।

সত্য-সারাংশ মুছে দিয়ে নামতা শিখি সাম্প্রদায়িকতার
নিজেকে স্থাপন করি পরম পামর রূপে।

কোথাও নেই মগজখেকো উপস্থিত-উপমা।
পাড়া গায়ের মূর্খ মাতাল জানে
বোধিপুস্তকে ধরেছে জলজ্যান্ত অধিবিদ্যের পোকা।



কঙ্কালধ্বনি থেকে অলৌকিক আয়োজনে

ক.
আলোর নেচে যাওয়া দেখে যারা শিখে নেয় নগ্ন প্রাণের নাটকীয় রেশ। তারা তো শেখে নি ভরপুর দ্রোহের কারুকা’য় বেঁচে থাকা।
কোনদিন তাদের পায়ের কাছে নেচে নেচে সবশেষে মরে যায়নি অন্ধ-প্রজাপতি।

সত্যিই আমাদের কোনো স্মৃতিচিহ্ণ নেই। না শোক না স্বপ্নের অনুবাদে।
কিছুটা স্বীকৃতি আজ জরুরি হয়তো আলোর আয়োজনে।
এই ভালো থাকা মায়াহীন পায়ের স্বরচিত আঙিনায় নেমেছে জেনেই
সফল সরলাংকের মতো মরে যাবো কোনোদিন। মিথ্যেগুলো জানা হবে না।

কেউ তো আছে, এই আহত বেলার সুর মুছে কালো অক্ষরে লিখে যাবে দাগহীন ভালো কোনো গালগল্পের কুয়াশা
ভাবতে থাকা সে সব অমৃত অধ্যায় থেকে মনে পড়ে যতোটা দূরে গেছি- পলাতক প্লাবন দেখে নিশ্চুপ
পাইনি তো নতুন অঘ্রানে বয়ে যাওয়া ধানের সৌরভ; মৃত রোদের সারাংশটুকু।

নির্মানের শহর থেকে আমি কিংবা তোমাদের নাগরিক জীবন কাল থেকে কালান্তরে দেখি মায়াময় হরিণের রূপ।
লবনাক্ত শরীরে যারা নেচে গেছে হাওয়ার ভিড়ে,পবিত্র প্রবাল ছুঁয়ে তাদের পায়ে লেগে আছে ঘোর-অঘোরের সমুদ্র-সংলাপ।

খ.
ভাতের গদ্য লিখুন ধর্মাবতার। লিখে ফেলুন রোদ আর কুয়াশার বিভ্রম। আমাদের কোনো ফুলেল ইতিহাস থাকতে নেই।
মাতালের রঙিন তন্দ্রার মতো নয় আমাদের সুর। আমরা নেচে যাই প্রকীর্ণ জলোৎসবের শুন্যতা ভালোবেসে।
কেবল বিশ্বাসের ডানায় ক্ষয়েছে প্রত্ন-প্রশ্বাস। ধূসর আঁধারের পথ কবেই খেয়েছে কালের হরিণ
শিহরণের নিখাদ ক্ষতো বধির সরীসৃপের বেশে খেয়ে যায় স্বাপ্নিক সাঁকো
রোদের সড়ক শেষে প্রকাশ্য জীবনের খোঁজ করেনি কেউ
আহবানে সমুদ্র ছায়া চোখে তুলে ঘোলাটে চশমায় দেখে নিই মৃত হাওয়ার ঠিকানা,পরাজিত দ্রোহের ভিড়ে উদ্বাস্তু ভাবনার দীর্ঘশ্বাস