সংজ্ঞায়িত মৃত্যুর আগে ॥ আফসানা জাকিয়া



সংজ্ঞায়িত মৃত্যুর আগে


১.

অলৌকিক পথে
স্বঘনমনে সম্ভ্রমে যে উত্তরী বায়ু
আজ তা তোমারই মতোন
তুমি সখা বন্দনা আমার
উত্তরী বায়ুর ছদ্মনাম
আমার মনো খোরাক বটে।
উদ্দেশ্য আশ্রয়ে, সম্মুখে কুঁড়েঘরে
যেখানেই যাই
ছায়া বিন্দুর পাড়ে
তুমি বিশ্বাস -কালচক্রের কোলাহলে।
ছায়া শাড়ির প্রান্ত পথে
প্রকৃতির অমৃত তুমি হবে
স্বর্গের সুশ্রী, যোগিনী হৃদয় ছুঁয়ে
আমি যে প্রজ্ঞায় বাঁচি মিশ্র জল বোধে।


২.

নৈঃশব্দে হেঁটে চলো গণিত বিদ
অতীত সন্ধ্যার দ্বারে ভেসে যায় শিস
দূরত্ব ঠেকাতে কানা, অন্ধও পুঁতে রাখে বিস্তর মানা
আমি তো আকাশ বিযুত জালে,
জ্বালিয়েছি প্রাক আলো
ভেতরের বেলকনি বেশে ফুলাধার শোকে।

ঐসব ব্যবহৃত যোনি
সুখে আছো ফুটো গাঁথুনি
উর্বর নান্দনিক রহস্য গলে
ব্যর্থতা ঝড়ে যায় কামরাঙা ডালে
আমি তো ঋতুর বর্ণাঢ্য সমুদ্র জোয়ারে।

নিগূঢ় ঐতিহ্য।তবে হীনে কোনো ভারবহ?
ইচ্ছের ইতিহাস গাঁথো মায়ার শরীর জুড়ে
জীবনের উজান আগুন,বাড়ে বাড়ুক দ্বিগুণ
ভূষিত স্বদেশী সামান্য চোরা আত্ন নিবেদন
আমার ভাবনা প্রেমিক লাজুক ঠোঁটে


৩.

একদিন আনন্দ হতে পারবো
আকাশে ওড়াবো নিষিদ্ধ সময়
যে প্রেম আসেনি আজও ঠেকে দেব দায়
অগোচরে ঝুলাবো পাপ, সর্বনাশ অতিশয়।

সকলের মুখ, পাপিয়ার গান হবে খুব
মাতমে মাতাল হবে চৈত্র দিনের বৃষ্টি
বড় অবেলায় খুলবে বুকের খাঁচা
জীবনের প্রতিকূলে ঝড়বে অমর সৃষ্টি।

আমি তো কন্টক নই যুবক
শ্রাবণের ভাষা বোঝা রাত্রি দিন
উদ্যত শরমে কৌশলী খাতা হই
ঝাঁঝালো গর্জনে বাজাই রঙিন বীণ।


৪.

বহুবার কাঁদতে চেয়েও-
নিরব হয়ে গেছি বহুবার
এ রং যুগে যুগে জ্বালায়
ভিখিরিকে ঋষি ভেবে বিস্ময়ে নাচায়,,,
ভেতরে শ্রাবণ
তবু নিরামিষ ভোজন
শূন্যবাদের খেলায়…