সম্পর্কের ঝাঁঝ ও অন্যান্য ॥ সাজিয়া সুলতানা মিম

সম্পর্কের ঝাঁঝ

তোমাকে ক্ষমা করবো ঠিকই মাঝে একটা কমা বসিয়ে,
দাঁড়ি দিলে তো সম্পর্কের ঝাঁঝ কমে যাবে বলো।
জানো তোমার স্মৃতিগুলো খুব বেশি ধারালো,
ভুলতেই বুকের ভেতরটা কেটে যায়।
খাঁচার ক্লান্ত পাখি দেখেছ কখনো?
মারা গেলে কতটা শূন্য লাগে তাই না।
ভাঙ্গা আয়নার টুকরো কথা বলতে পারেনা
তোমার দেওয়া গালিটাও শুদ্ধ ছিল আমার কাছে,
কান্নার জেদি জলের রঙ নেই, তাই মুখটা রঙ্গিন হয়না।
ফুলের তীব্র ঘ্রাণ অনুভবে তেতো স্বাদ জাগায়..
মন কেমন বাধ্য হয়ে থাকে তোমাকে ভাবতে,
তুমি মুক্তি দিয়েছ তবু বাঁধা আমি ঠোঁটের সেই মাতাল বাক্যে।
ঐ তো ভালোবাসি বলেছিলে…
যায় হোক গলানো মোম তো আলো ছড়ায় না,
ভালো থাকো- এই কি ভাবছো?
এই কথা তোমাকে নয়! নিজেকে বললাম।
ভুল আর করছি না।


ভাগ্যের আত্মহত্যা

সে চলে যাবে।
এক আকাশের সমান অধিকার ছেড়ে…
সাধ্য নেই আমার সত্যি বলছি।
বাধ্য সে,
তার হাতে বাঁধা জোড়া রশি…
হাজারো স্বপ্ন ছেড়ে চলে যাবে সে।
কত দাবি, কত রাগ, কত অভিমানের মায়াভরা মূহুর্ত…
চলে যাবে সে আমায় রেখে আঁধার ঘরে,
একলা একলা বড্ড একলা হয়ে রইবো ঘরের কোণে।
জীবনটা তাসঘর…
তার নেশায় মাতাল আমি,
ভাবতে লাগে অবাক থাকবে না সে, তুমি,
সে ঘ্রাণটা আর আমায় ছোবে না।
ভাবনাগুলো যন্ত্রণার দাবানলে পুড়ে,
অবশিষ্ট নেই ছাই,
সে সত্যি নিবে কি বিদায়?
ভালোবাসি কতবার বললে পাবো তারে,
ভাগ্য তুমি আত্মহত্যা করো-
অনুমতি দিলাম।


মাঝপথে

মাঝপথ মানে কারণে অকারণে চিলের ডাক।
স্মৃতিকে শাসন করে দেহ ক্লান্ত হয়ে নুয়ে পড়ে ভাঙ্গা প্রাচীরে,
প্রতিটা রাতে ভাবি আঁধারে মানুষ কতটা সুন্দর-
প্রিয়জন তো প্রিয়জনই হয়, ভালোবাসা যেমন
কখনও প্রয়োজন হতে দেখিনি,
আর অবহেলা সেতো গালে কষে ঠাস ঠাস থাপ্পড়ের মতো-
সবাই বলে অনূভুতির নাকি চিত্র নেই।
একটু ভিন্ন ভাবলে কি ভাবা যায়?
স্বার্থপর প্রতিজন তবু একে অপরের দিকে আঙ্গুল তোলার স্বভাবটা অন্যরকম-
আঙ্গুলও কম নেই আর অভিজ্ঞতাও।
জীবনটা একদম এমন, মিথ্যে কথাতে কাক কা কা করার মতো,
আবার বিবেক টিকটিকির কাটা লেজের থেকেও খারাপ।
বিবেকের কোনো নতুনত্ব নেই..
এদিকে মাঝ পথের গল্পগুলো ভীষণ ভীরু।
না পারে এগোতে, না পারে পেছাতে।
কান্নার নোনা জলে স্বপ্ন স্নান করে,
চাঁদকে যেমন দূর থেকে সুন্দর লাগে
তেমনি সবার মন।
এইজন্য প্রেমে পড়া বারণ,
তা না হলে মাঝপথে থেমে যাওয়াটা হয় বিশেষ কারণ।
সত্য সে কি! ঠোঁটে আসতেই তো রূপ বদলায়।