সুমিত পতি’র কবিতা


মা

অমৃত সুধারস গিলে খাব তোমার নিবিড় দু’হাতের স্পর্শে
অনন্ত বিস্তৃত নগ্ন মাঠে বয়ে বেড়ায় মনোহারী বাতাস
ভালাই গাছের ফোঁকরে বাসা বাঁধা টিয়া মা জেনেছে
রহস্য অপার হলে উড়াল বেয়ে নেমে আসে কুয়াশা প্রান্তর।

নির্বিষ ভোরের রহস্য নিয়ে জেগে ওঠে ধলদিঘির মাঠ ঘাট
বেনে বুড়ির থানে আজো ঝরে ঝরে পড়ে মহাজাগতিক গল্প
গরু হাল নিয়ে ভোরের কুয়াশা ভেদ করে জেগে ওঠে চাষা

অপার রহস্য নিয়েই আমৃত্যু পথ হেঁটে যায় পথিক সব
মা, দু –হাত দিয়ে আগলে রাখেন সভ্যতা, শোক-দুঃখ-জরা


পথিক

রাত্রি খুলে দিয়েছে সমস্ত ডালপালা; বুকে তারার মালা
অনির্বাণ তারাটির দিকে চেয়ে চেয়ে এগিয়ে যাবে নিশাচর
রাত্রির পথিক কোন পথে ফিরে ফিরে যাবে আঁতুড়ের গন্ধে
সব পথে কাঁকর বিছানো, জননীর অস্থি-চর্ম ছড়িয়ে আছে।

রাত্রির নিজস্ব রঙে রঙিন হয়ে অঙ্কুরিত হয়ে ওঠে বীজধান
বাদল পেরিয়ে, ঝড় ঝঞ্ঝায় মাথা তুলে দাঁড়াবে একদিন
পথিক, সেদিন এসো তুমি কল্যাণ হয়ে, গৃহে পাড়ো পাত।

কল্যাণ চিহ্ন আঁকা হোক পোড়া প্রান্তরের সীমায় সীমায়
সংসার সাজাক প্রেম, পথিক খুঁজে পাক বিশ্রাম পথের ধুলায়।


অষ্টাদশী

নির্বিকার তারা হয়ে জ্বলে ওঠে জননীর শুষ্ক মুখ
হাড়াইয়ের জলে তখনো পাক খেয়ে যায় বুনো হাওয়া
কতকালের বেহুলা-লখিন্দরের মান্দাস বয়ে চলে আজো
বাতাসে বাতাসে ভেসে বেড়ায় সতীত্ব, এয়োদের আচার।

গৃহস্থের ত্রস্ত বুকেও বাজে বিশ্বস্ত জীবনের মান–অভিমান
হাড়াইয়ের ছলাৎ ছলাৎ শব্দে সংসারের বয়স হয় টলোমলো
যে যার মতো প্রসাধনে সাজিয়ে নেয় ঋতু দোষ, সহজ মনস্কাম।

হাড়াইয়ের মতো ‘হা’ এর ভেতর আজো খেলে কমলে কামিনী
জননীর চোখে আজও ভেসে ওঠে সেই অলৌকিক অষ্টাদশী।