সোনালি অসুখ, সন্তানের মতই প্রিয় ॥ মাহফুজা অনন্যা



মানুষের জীবনে এমন কিছু বিষণ্ণতা থাকে যা চিরদিন গোপনীয়ই থাকে। ঠিক গোপনীয়ও নয় কখনো কখনো, হয়তো পরিবার, মা-বাবা, ভাইবোন, আপনজন ও কিছু কাছের বন্ধু জানে। কিন্তু কিছু বিষণ্ণতা শুধু একাই বহন করতে হয় মানুষকে। আপনজনদের শুধু দীর্ঘশ্বাস ফেলা ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না। আমিও মাঝেমাঝে বিষণ্ণতায় কাবু হয়ে যাই। এ বিষয়টি কেউকেউ জানলেও খুব করে বুঝতে পারে আমার ছোটভাই মেহফুজ আনান। তখন ২০১৫ সাল। আমার ভাই আমাকে বলে মন খারাপ করে না থেকে আমি যেন আমার ভালোলাগা, কিংবা কষ্টের কথাগুলো, যেগুলো আমি ডায়রীতে লেখি, তা যেন ফেসবুকে লিখে পোস্ট দেই। ওর কথা মতো আমি লিখতে লাগলাম।

পরিচিত, অপরিচিত অনেকেই আমার লেখার প্রশংসা করতে লাগলেন। তারমধ্যে একজন বিশেষ মানুষের কথা না বললেই নয়। উনি আমার কর্মজীবনের শ্রদ্ধেয় স্যার শাহেদ ইমরান। অফিসে কাজের ফাঁকেফাঁকে আমি কালি ও কলম ম্যাগাজিন পড়তাম, আর যখন যা মনে আসতো লিখে রাখতাম। একদিন আমার ডেস্কে এসে বিষয়টি উনি খেয়াল করেন। উনি আমার লেখা পড়ে প্রথম থেকেই উৎসাহ দিয়েছেন এবং বলেন আমি যেন নিয়মিত লেখি। এভাবে আমি আমার লেখালেখিতে নিয়মিত হই, মনোযোগ দিই। ফেসবুকে লিখতে লিখতে খেয়াল করি বেশ প্রচার হচ্ছে আমার লেখাগুলো। লিস্টের বোদ্ধা কবিগণ, পাঠকগণ আমাকে নিয়ে আশাজাগানিয়া মন্তব্য করতে লাগলেন। একসময় বন্ধু ও সহপাঠীরা সবাই বলল, যেন একটা বই করি।

আমি তখন প্রকাশকদের কাউকেই চিনি না। কয়েকজন ইনবক্সে স্বেচ্ছায় বই করে দিতে চাইলেন, কিন্তু তাদের সম্পর্কে জানি না বলে পাণ্ডুলিপি দিইনি। হঠাৎ একদিন ফেসবুকে পরিচয় হলো কবি জাকির আবু জাফরের সঙ্গে। উনি আমার কবিতা পড়ে খুব প্রশংসা করলেন। আমি বই প্রকাশের ইচ্ছে জানালে আমাকে একজন প্রকাশকের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলেন। তার ফোন নাম্বার দিয়ে সাহায্য করলেন। প্রকাশকের সঙ্গে কথা বললাম, ভালো লাগলো। আমি আমার জীবনে লেখা প্রথম আবেগ ও ভালোবাসার কবিতার পাণ্ডুলিপি একাত্তর প্রকাশনীকে দিই। প্রকাশ পায় আমার প্রথম বই ‘সোনালি অসুখ’। বইয়ের প্রতিটি কবিতাই অসম্ভব প্রেমের নিগূঢ় প্রতিচ্ছায়া। বইটি ২০১৮ তে প্রকাশ হলেও ২০১৯ একুশে বইমেলায় প্রথম আসে। প্রথম বইটির বিপুল পাঠকপ্রিয়তা দেখে আমি বিস্মিত হই। একজন কবি বা লেখকের কাছে তার সৃষ্টি সন্তানের চেয়ে কম নয়। আমার কাছেও তাই। আমার বই ‘সোনালি অসুখ’ আমার কাছে সন্তানের মতই প্রিয়।