স্যান্ডেল ॥ মোহাম্মদ কামরুজ্জামান



‘ঘটনাটা নিজের মনের ভেতরে অনুপুঙ্খ ঘটিয়ে দেখতে হয়, তারপর যা দেখলেন, তার থেকে যেটুকু বললে, অন্যরাও সেটা দেখতে পাবে, শুধু সেটুকুই বলতে হয়—এই হলো গল্প লেখা,’ আনিস ভাই জাহিদ ভাইকে বলছিলেন, ‘লিখতে লিখতে একদিন বুঝতে পারবেন, বেছে বেছে ঘটনার কয়েকটি বাঁক উল্লেখ করলেই, ঘটনার পুরোটাই অন্যকে দেখানো যায়, সারা পথ দিয়ে হাঁটিয়ে নেবার দরকার পড়ে না।’

বইমেলা আসছে দেখে, আমার হঠাৎ করে গল্প-উপন্যাস লেখার ইচ্ছে হলো। একদিন সকালবেলা সাহস করে লিখতেও শুরু করে দিলাম। লেখার সময় আনিস ভাইয়ের ওই কথাগুলো মাথায় ঘুরছিল। অনেকদিন আগে কথাগুলো বলেছিলেন তিনি, আঠারো বছর হবে হয়তো। উনি নিজে লেখালেখি তেমন করেননি, কয়েকটা কবিতা লিখে লেখালেখির ইস্তফা দিয়েছিলেন, কোনো গল্প-উপন্যাস লিখেছেন—এমন শুনিনি। তবে সাহিত্যের কথা বলতে পছন্দ করতেন। যা বলতেন, গল্প করে বলতেন।

আমার যা মনে আসে, তা সরাসরি বলা অভ্যাস, গল্প করে বলার দরকার পড়েনি কখনো। তবে বুঝি, ঠিক করে গল্প করে বলতে পারলে পাঠক-শ্রোতাদের মনে চিত্রকল্পনা হয়-তারা মানসপটে পাত্রপাত্রীদের চলাফেরা টের পায়, আর তাতে সুখ লাভ করে। তাই, মানুষ শোনার চেয়ে দেখতে বেশি পছন্দ করে, কানের চেয়ে চোখের মূল্য বেশি দেয়। ধরুন, ছিনতাইকারীরা আপনার কাছে টাকাপয়সা না পেয়ে, বায়না ধরে বসল, ‘শরীরের একটা অঙ্গ দিতে হবে—কেটে দেবেন, না খুলে দেবেন?’ আপনি কাটতে ভয় পান, খুলতে ভয় পান না, তারপরও বলবেন, ‘কেটে দেব’, যদি বিকল্পদুটো হয় মাথার দুপাশ থেকে কানদুটো কেটে দেয়া আর কোটর থেকে চোখদুটো খুলে দেয়া। অথচ দেখুন, চোখের চেয়ে কান বেশি সামাজিক, অন্য অঙ্গগুলোর সাথে তার বেশি মাখামাখি—চোখ না থাকলে, কেবল দেখার ক্ষমতা থাকে না, কিন্তু কান না থাকলে, শোনা ও বলার ক্ষমতা—কোনোটাই থাকে না। যদি ‘ক’ কী করে উচ্চারিত হয়, তা কখনও না শোনেন, তো ‘কবেকার পাড়াগার অরুণিমা স্যান্যালের মুখ’ দেখে কোনো অনুভূতি পাবেন না। তারপরও বলবেন, ‘মাথার দুপাশ থেকে কানদুটো কেটে নেন।’

কানের এত সামাজিকতার পরেও, আপনার ভালোবাসা চোখের প্রতি, আপনি গলা ছেড়ে গেয়ে ওঠেন—
‘আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি
এই চোখ দুটি মাটি খেয়ো না
আমি মরে গেলেও তারে দেখার সাধ
মিটবে না গো মিটবে না
তারে এক জনমে ভালোবেসে
ভরবে না মন ভরবে না’

যদিও আপনি জানেন, ভালোবাসার জন্য চোখের প্রয়োজন নেই—মানুষ চোখ দিয়ে ভালোবাসে না, মন দিয়ে ভালোবাসে— তারপরও আপনি চোখ রক্ষা করবেন—বলবেন, ‘পোচ দিয়ে আমার কানদুটো কেটে নেও।’

কানকে মানুষ বিশ্বাস করে না, মানুষ শোনা কথায় কান দেয় না। মানুষ কানকে খুব হালকাভাবে নেয়। আমি কান ডোনেট করার কথা শুনিনি কখনো, কারোর প্রয়োজন পড়েনি—সেটা হতে পারে, আবার এটাও হতে পারে যে, এতে পর্যাপ্ত মহত্ব নেই, চ্যারিটি যেটুকু হয়, তা দিয়ে সমাজে প্রতিপত্তি যা বাড়ে, বিপত্তি তার চেয়ে বেশি। মানুষকে আরেকজনের চোখ লাগিয়ে ঘুরতে দেখলে, দাতার প্রতি ভক্তি জাগে, কিন্তু কান লাগিয়ে ঘুরতে দেখলে, দাতার কথা মনে করে হাসি পায়।

যাই হোক, শোনার চেয়ে দেখার, আর শোনানোর চেয়ে দেখানোর ওপরে মানুষের ভরসা। তাই মানুষের জন্য গল্প বানাতে হলে সেটা মেনেই গল্প বানাতে হয়—চিত্রকল্পসহায়ক বর্ণনাশৈলির আশ্রয় নিতে হয়। আমার তা নাই। এদিকে বইমেলা এসে যাচ্ছে। একটা বই হলে ভালো হতো। শরীরে চাদর পেঁচিয়ে কটাদিন বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে কোনো স্টলের সামনে দাঁড়াতে পারতাম। কাফকা, অগাথা ক্রিস্টি, সমারসেট মম, রবার্ট লুই স্টিভেনশন; দেশের বঙ্কিম, রবীন্দ্রনাথ, সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, হুমায়ুন আহমেদ, সৈয়দ শামসুল হক পড়ে পড়ে গল্প বলার কিছু কায়দা শিখে, একটা উপন্যাস দাঁড় করালাম। একজন প্রতিষ্ঠিত গল্পকারকে দেখাতে পারলে ভালো হতো। আনিস ভাইয়ের সাথে কোনো যোগাযোগ নাই। উনি বেঁচে আছেন, না মরে গেছেন তা-ও জানি না। একদিন জাহিদ ভাইকে ফোনে ধরলাম—ঘণ্টাখানিক সময় দিতে হবে। উনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, বই ছাপাতে সাহায্য করতে পারবেন না—এখন সবাই কমার্শিয়াল—টাকা চায়। তিনি আরও বললেন, ‘টাকা দিয়েই যদি ছাপাবেন, তবে আমার কাছে আসার কী দরকার—সরাসরি প্রকাশকের কাছে চলে যান। আমার কাছে এলে, আমি বড়োজোর আপনাকে কিছু প্লান দিতে পারব। লাগলে আইসেন। তবে আইজ না।’

পত্রিকা অফিসে উনি ডেস্কে বসতেন, আর আমি রিপোর্টার ছিলাম। উনি লেখালেখি চালিয়ে যাচ্ছেন, আর লেখালেখি হবে না দেখে একদিন আমি পত্রিকা অফিসের চাকরি ছেড়ে দিয়ে, বিস্কুট কোম্পানিতে চাকরি নিলাম। তবে পত্রিকা অফিসের সহকর্মীদের সাথে যোগাযোগ আছে।

জাহিদ ভাই আজ-না-কাল করে সপ্তাহ দুই পর একদিন সময় দিলেন, অফিস ছুটির পরে। পাণ্ডুলিপি নিয়ে সন্ধ্যায় ‘দৈনিক আশার আলোর’ অফিসে গেলাম। উনি একটা ঢিলেঢালা ট্রাউজার পরে অফিসের রুমে রুমে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। দেখেশুনে মনে হলো, বইমেলার আগের কমাস উনি অফিস শেষ করে বাসায় ফেরেন না; অফিসের এসিতে বসে, অফিসের কম্পিউটারে উপন্যাস লেখেন, গল্প লেখেন, কলাম লেখেন, দু—এক পাতা লিখে লিখে অফিসের প্রিন্টারে প্রিন্ট করে চোখের সামনে মেলে ধরেন—দেখেন, লেখা ঠিক আছে কি না।

আমি ওনার সামনে পাণ্ডুলিপি রাখলাম। নাম দেখে উনি ভ্রূ কুঁচকালেন। আমার নজর পড়ার আগেই ভ্রূ সমান করে ফেললেন।
‘নাম পছন্দ হয়নি?’ আমি বললাম।
উনি না-বললেন।
‘নাম একটা হলেই হলো। চাইলে, আপনিও একটা দিয়ে দিতে পারেন।’ আমি ক্যাজুয়ালি বললাম।
‘না, হবে না। নামের কারণে এক বইমেলায় পাঁচ হাজার কপি বই বিক্রি হবে, আবার নামের কারণে তিনবছরে তেরোটার বেশি বই বিক্রি হবে না, আপনি জানেন?’
‘তাহলে, একটা ভালো নাম দিয়ে দেন।’
জাহিদ ভাই উপরের দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে চিন্তা করলেন। তারপর বললেন, ‘প্রেমের উপানহ।’
আমি বললাম, ‘সুন্দর নাম।…কিন্তু, ‘উপানহ’ মানে কী?’
উনি সাথে সাথে মনে করতে পারলেন না। উপর দিকে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে চেষ্টা করতে লাগলেন, ‘উপানহ’ মানে… ‘উপানহ’ মানে…একটু দাঁড়ান, মনে আসছে, আবার আসছে না…এই, মনে পড়েছে—‘উপানহ’ মানে—জুতা, স্যান্ডেল, পন্চ।’
‘কিন্তু, কোনো গল্পে তো জুতো-স্যান্ডেলের বিষয়ে আলাপ করা হয়নি।’
‘আপনার গল্পে নায়ক-নায়িকা আছে না?’
‘আছে।’
‘ওরা কি বেকার না ফকির?’
‘মাঝারি।’
‘ওরা কী খালি পায়ে ঘোরে?’
‘না।’
‘তার মানে, পায়ে স্যান্ডেল আছে, তাই না?’
‘আছে।’
‘তাহলে নামে স্যান্ডেল থাকলে সমস্যা কী? নামটা সুন্দর কি না, তাই বলেন।’
‘সুন্দর।’
‘সমস্যা কোনো?’
‘না, কোনো সমস্যা নাই—নামে কেন, হাতে পায়ে গলায়—সবখানে স্যান্ডেল থাকতে পারে।’

জাহিদ ভাই ‘শীত-বসন্তের আখ্যান’ কেটে দিয়ে, নিজ হাতে পাণ্ডুলিপির উপরে ‘প্রেমের উপানহ’ লিখে দিলেন।
আমার মুখটা কালো হয়ে গেল। ছাপানোর পর ওনাকে সৌজন্য কপি দিয়ে যেতে হবে। বই হাতে পেয়ে, উনি বইয়ের নামটা আবার দেখবেন। নাম চেঞ্জ করলে, দেশের ভালো প্রকাশনার সবগুলোতে ফোন করে আমার নামটা বলে দেবেন। প্রকাশকরা সারা বছর ওনার মুখ রক্ষা করে চলে। ওনাকে বোঝাবার সাধ্য এই তল্লাটে কারোর নাই। একবার শাহরিয়ার ভাই ওনার একটা বইয়ের নাম নিয়ে কী যেন বলেছিলেন—তিনবছর শাহরিয়ার ভাই বই বের করতে পারেন নাই। তিনবছর পর প্রথম যে বইটা বের করেছিলেন, তার নাম দিতে হয়েছিল, ‘শৌচাগারে উপবিষ্ঠ শাহরিয়ার’। শাহরিয়ার ভাই হচ্ছেন ‘দৈনিক আশার আলো’ পত্রিকার সম্পাদক।

‘কামরুজ্জামান, বই কেন ছাপাতে চান? মানুষকে দিয়ে পড়ানোর জন্য—তাই না?—না হলে তো লিখতেন না। আর লিখলেও, চৌকির নিচে রেখে দিতেন—দিতেন না? তাহলে, যা বলি, শোনেন্। আপনার নামটা পুরোনো। এ নামে আজকাল আর লেখক হয় না। আগে হতো। নাম পাল্টাতে হবে।…উপন্যাসের শব্দ সংখ্যা কত দিয়েছেন?’ জাহিদ ভাই বললেন।
আমি বললাম, ‘তেপ্পান্ন হাজার।’
‘ওরেব্বাবা। বিক্রি হবে না।’
‘কেন?’
‘মাসের চাইল কিনতে গিয়া, বস্তা মাথায় তুইলা বাসায় নিয়া আসেন?’
‘না।’
‘কতটুক আনেন?’
‘পাঁচ কেজি, পাঁচ কেজি।’
‘তাহলে, বস্তা ভইরা শব্দ ব্যাচতাছেন ক্যান্? বস্তা ভইরা ব্যাচা যাবে না। ঠোঙায় কইরা ব্যাচেন।’
‘কী করব?’
‘ভাইঙ্গা তিনডা বানান।’
‘কোথায় কোথায় ভাঙব?’
‘প্রতি সতেরো হাজারে একটা কইরা ভাঙা দেন।’
‘ঘটনা তো দুইভাগ হইয়া যাইব।’
‘হইতে দেন…সাসপেন্স…সাসপেন্স মানে জানেন?—ঝুলানো—ঝুলাইয়া রাখেন।’
‘কতক্ষণ?’
‘নেক্সট বইমেলা পর্যন্ত।’
‘বলেন কী।’
‘যা বলি, তা-ই শোনেন্। এক বইয়ে বিশ হাজার শব্দের বেশি বিক্রি করবেন না।’
‘আপনি কিছু প্লান দিবেন, বলেছিলেন।’
‘এতক্ষণ কী দিলাম?’

আমি স্যান্ডেল মাথায় করে ঘরে ফিরে এলাম। বইয়ের নাম বদলাতে হবে, আমার নাম বদলাতে হবে, এক বইয়ে এত শব্দ বেচা যাবে না। আমার মাথায় স্যান্ডেল। জাহিদ ভাই ঢুকিয়ে দিয়েছেন। আমার মাথা থেকে স্যান্ডেল বেরুচ্ছে না। কাফকা, অগাথা ক্রিস্টি, সমারসেট মম, রবার্ট লুই স্টিভেনশন, বঙ্কিম, রবীন্দ্রনাথ, সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, হুমায়ূন আহমেদ, সৈয়দ শামসুল হক পড়ে লেখা উপন্যাসের নাম হবে ‘পিরিতের স্যান্ডেল’।

অবশেষে, আমি স্যান্ডেল বের করলাম। কটাদিন বাংলা একডেমি বইমেলায় চাদর পরে দাঁড়ালাম। ভালোই লাগত। বেশ আনন্দে ছিলাম। বইমেলার শেষের দিন মনে হলো, মেলাটা এ বছর খুব দ্রুত শেষ হয়ে গেল—প্রেমিকার সাথে প্রথম সাক্ষাতের মতো।

মেলা শেষ হতেই খারাপ লাগতে শুরু করল। রাতে দুঃস্বপ্ন দেখতে শুরু করলাম।

রাতে ঘুম হচ্ছে না। রোজরাতে দুঃস্বপ্ন দেখছি। আমি বিছানায় শুয়ে আছি পায়ে স্যান্ডেল পরে, আমার দুইহাতে দুইটা স্যান্ডেল, স্যান্ডেল দিয়ে চড়াৎ চড়াৎ করে করতালি দিচ্ছি। আমার মুখ বন্ধ, কথা বেরুচ্ছে না—দুই ঠোঁট ঠেলে জিহ্বার মতো বেরিয়ে আছে স্যান্ডেলের মাথা—হলুদ রঙের। আমি কানে শুনতে পারছি না—আমার দুইকান যেন ফিতাঅলা দুইটা রাবারের স্যান্ডেল।

ইদানীং পরিষ্কার করে কিছু ভাবতেও পারছি না। ভিখিরিরা আমার কাছে ভিক্ষা চাইতে আসলে, বিরক্ত হই। তাড়িয়ে দিই, ‘যাহ্ ভাগ্, কাজ কইরা খা।’ নিচের দিকে খেয়াল করলে হয়তো দেখি, ওর দুই পা হাঁটুর নিচ থেকে নাই—এক হাতের কব্জি থেকে নাই। তবে স্বাস্থ্য ভালো, বোধহয় ট্রাক চালাত।

ইদানীং লক্ষ করছি, ভিক্ষুকরা আমার কাছে আর ভিক্ষা চায় না। দুএকজন আমাকে দেখে এগিয়ে এসে, আবার কী যেন মনে করে ফিরে যায়। ফুটপাথ দিয়ে দ্রুত হেঁটে গেলে, লোকজন সরে গিয়ে জায়গা করে দেয় না। বাজারে জিনিসপত্রের দাম দুই তিনবার জিজ্ঞাসা না করলে, দোকানদাররা দাম বলে না। সকালে হাঁটতে বেরুলে, গলির পথের কুকুরগুলো আগে পথের একপাশে সরে যেত, এখন পথের ওপরে আয়েশ করে আড়মোড়া ভাঙে—কী হয়েছে আমার?

নিজেকে খুব হালকা মনে হচ্ছে। ছেলেবেলায় কঙ্কণাদের পুষ্করিণীতে সাঁতার কাটলে যেমন মনে হতো—আমি ডুবতে গিয়ে ভেসে উঠছি, ডুবতে পারছি না, কেবল ভেসে বেড়াচ্ছি। আমার মনে হত, ডুবতে ডুবতে পুষ্করিণীর তলায় যেতে পারলে, সারা শরীর ঠাণ্ডা করে উঠে আসতে পারব। আমি ডুবতে পারতাম না। ঠোঙার মতো ভেসে বেড়াতাম।

আমার লেখালেখি বন্ধ হয়ে গেছে। ঘরে অস্থির পায়চারি করি, বাইরে এলোমেলো ঘোরাঘুরি করি। কোথাও দাঁড়াতে পারি না। কেবল হাঁটি। কেবল হাঁটি। আমি কি তাহলে একজোড়া রাবারের স্যান্ডেল হয়ে গেছি?