হাইকু ॥ আরশাদ উল্লাহ্‌


অমত্ত রাত্রি,
স্মরণে স্বপ্ন তুমি
উষ্ণ আবেশে

২।

হিম-ঝটিকা,
নির্ঘুম শূন্য গৃহে
বন্ধু হিটার

৩।

সহস্র অলি,
পুস্পিত পুস্প গন্ধ
আম্র কাননে

৪।

নিস্পত্র ডালে
নবকিশলয়,
উষ্ণ হাওয়া

৫।

অস্তিত্ব স্বপ্ন,
নহে চিরবসন্ত
কন্টকাকীর্ণ

৬।

ক্যামেলিয়া রঙ,
সুষম নারী ঠোঁটে
রাঙ্গা ঝিলিক

৭।
শিশু শ্রমিক,
মাটি কাটে পুনশ্চ
চাঁদও দেখে

৮।
তিমির ডুব,
যত গভিরে লেজও
তত উপরে

৯।
ম্যাপেল বৃক্ষ
রঙ্গিন রাঙা পত্র,
শান্ত হাওয়া

বিদ্র: ষোল শত শতাব্দীতে জাপানের বিখ্যাত কবি মি. মাৎচুও বাশো জাপানে প্রথম ‘হাইকু’ কবিতার প্রবর্তন করেন। তিনি ওয়াকা কবিতার শেষ দু’লাইন বাদ দিয়ে ৫,৭,৫=১৭ বর্ণধ্বনিতে হাইকু কবিতা লেখেন। সে জন্য তাকে হাইকু কবিতার জনক বলা হয়। হাইকু কবিতাতে কোন বিশেষ মুহূর্তে উল্লেখযোগ্য কোন ঘটনা দেখে সে ঘটনাটিকে বিশেষ ভাবে প্রকাশ করা হয়। তৎসঙ্গে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ ভাবে সময় বুঝাতে হবে। অর্থাৎ কোন সময়ে ঘটনাটি ঘটেছে হাইকুর মধ্যে তা দেখাতে হবে। উদাহরণ-
“গন্ধ বিলিয়ে
পুস্প-পাপড়ি ঝরে,
নবপল্লবে”
( হাইকুটি আমার লেখা। এখানে, হাইকুটি দু’ই ভাগে বিভক্ত। একটি (,)কমা দিয়ে বিভক্তি বুঝানো হয়েছে। বর্তমানে হাইকুতে কমা বা (?) প্রশ্নবোধক চিহ্ন নেই। কারণ, কমা না দিলেও চলে। একটু ভাবতে হয় শুধু। হাইকুতে সময় দেখাতে হয়। বসন্তে অনেক ফুল ফুটে। দু’এক সাপ্তাহ পরে ঝরে যায়। এখানে ঝরে যাওয়া পাপড়ি দেখে হাইকুটির ভাব নিহিত। ফুল ফুটে গন্ধ-সৌরভ বিলিয়ে ঝরে যাচ্ছে। তারপর ‘নবপল্লব’ আসে। জাপানের অনেক গাছে বসন্তে ফুল প্রথমে ফুটে, তখন পাতা গজায় না। ফুলের পাপড়ি ঝরে গেলে নতুন পাতা দেখা যায়। প্রকৃতির উদারতা ও নির্মমতা দুই’ই এখানে রয়েছে। বসন্তকালে ফুলে ফুলে জাপান নান্দনিক রূপ ধারণ করে। তারপর বহু রঙ্গে রাঙ্গিন পুস্প ঝরে যায়। গাছের ডালে ডালে পাতা গজায়।

কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পাঁচবার জাপান ভ্রমন করে হাইকুর অন্তর বুঝে বলেছিলেন,”জাপানিরা বেশি কথা বলে না। হাইকুতে সামান্য কয়েকটি কথাতে বড় এবং গূঢ় একটি ভাবকে অল্প কথায় কিছুটা বুঝিয়ে বাকিটা বুঝার জন্য পাঠকের উপর ছেড়ে দেয়। হাইকুর জনক মাৎচুও বাশোর একটি অনুবাদ হাইকু-
“পতিত ঘোড়া,
শকুনের ছায়াতে
উড়ন্ত মাছি”
( হাইকুটিতে সময় রয়েছে। প্রকৃতির নির্মমতা প্রকাশ পেয়েছে। বাকিটা পাঠক ভেবে দেখুন।)