হিমবাসনা ও অন্যান্য ॥ তুলি রহমান


হিমবাসনা


হিমবাসনা খুঁটে খায় প্রলুব্ধ অন্ধকার
চাতকমাটি আয়ুপথে বুনে রাখে হিমবাসনা।
অতঃপর বাসনা পরিব্যাপ্ত হয় পথের দ্রাঘিমা জুড়ে;
নিদ্রিত চোখের পরিব্রাজক খোঁজে বিষফণা।
তখনো শোনেনি কেউ কোনো বিষধ্বনি
তখনো হয়নি কোনো রক্তপাত পৃথিবীর ভূগোলে
তখনো বাজেনি কোনো সঙ্গীত রুদ্রবীণার তারে
নৃ-মৃত্তিকায় ফসলের অনুধ্যান বীজঘুমে
সোনালী শস্যদানার মতো নাবিকের বিনত চোখ
শেওলাত্বকের বোধিদ্রুম যেন এক।
শেওলাত্বকে জমে হিমবাসনা।
প্রেমাত্মার বিবর্তন ইতিহাস জেগে থাকে কালের অধিক।
প্রলুব্ধ অন্ধকারে খুঁটে খায় প্রাগৈতিহাসিক জীবন।


অন্ধঈগলের পাণ্ডুলিপি

বিষুবীয় প্রান্ত ছুঁয়ে এক অপরিমেয় দূরত্ব অতিক্রম করি
নগরের প্রবেশদ্বার উন্মুক্ত হলে সূর্যাস্তের মুদ্রাপাঠ সমাপ্তি হয়
নেশাগ্রস্থ রাতের নিলামে নগরে প্রবেশ করে নীলরৌদ্রে পিতলের আলো
ত্রিকালের আয়ু দখল করে এক অন্ধঈগল বায়ুগ্রস্থ রাতে।
যে রাতে ঈগল অন্ধ হলো, সে রাতে বায়ুর প্রকম্পনে
ঈগলের ডানা হতে খসে পড়ল সব পালক
পালকহীন ডানায় অন্ধ ঈগল খনন করে এক ডেরা।
ডেরায় প্রবেশ করে অন্ধ হাওয়া। তবু
নক্ষত্রহীন আকাশে অন্ধঈগলের পাণ্ডুলিপি খোলা থাকে সারারাত।
বোধের অধিক যে পাঠ প্রারব্ধেই হয় তার পরিসমাপ্তি।
তবু তিন কালের আয়ু নিয়ে জেগে থাকে অন্ধঈগল


পানশালা ও কতিপয় মানুষ

পানশালাগুলো খুব নীরবে ঘুমায় আজ
মদশূন্য বোতলগুলো শাসায় পরস্পরকে
জানালার শার্সিগুলো জানায় সতর্কসংকেত
অতঃপর আক্রমণ
মাতালেরা সচকিত নিজেকে গুছিয়ে নেয়
জিতে যেতে চায় পাশার শেষচাল
আর তাই আলগা হাতের শক্ত থাবা
রাখে নরম কাঁধে
কতিপয় মানুষও সেখানে আসে, দেখে যায় দৃশ্যসব
দৈববাণী দেবতার দূত যেন সব
দেবতারা দেখেছিল যেমন বেহুলার নাচ
আর যমুনার জলে পড়েছিল অমরাবতীর শোকছায়া।