ক্লোরোফিলে পত্র দিলাম এবং অন্যান্য ॥ হিরণ্য হারুন


ক্লোরোফিলে পত্র দিলাম

বৃক্ষের কথোপকথনে পাখিরা হয় দুঃখবিলাসী
অঝোর নয়নে ঝরে স্বপ্ন
মানুষ প্রেম বুকে
ছুটে চলে পথে-প্রান্তরে
নিশ্চিত কোথাও কোন ভুল থেকে গ্যাছে ভুলের গভীরে
বৃক্ষদের কোন ভুল নেই
পাখিরা নিরাশাবাদী নয়
প্রেম-পরিণয় যেন রক্তঅসুখ
কোন নিষেধ নেই, নদীর জল পেরিয়ে যায় বসন্ত
শান্তিতে স্নান
হয়তো কারো চোখের জল
অস্থিরতা সে এক সূত্র
শেকড়কে আঁকড়ে ধরে দাঁড়িয়ে আছে আরেক শেকড়
সত্যকে টেনে নেয়
আশায় বাঁধ নিরবধি
পূর্বপুরুষ সাঁতরায় সমুদ্রের বুকে
প্রাক্তন প্রেমিকার বুকে গঁজায় ভালোবাসার রাজধানী
শতাব্দীর পর শতাব্দী পেরিয়ে
আকাশ গলে পৃথিবীর বুকে
হ্রদের সূত্রপাত গোলাকার চোখে
দূরের জনপদ ভেঙে আরো দূরে যায়, বহুদূরে
অশ্রুবিন্দুতে কোন ভুল নেই
শেষ চিঠিটা পড়ে থাকে
বৃক্ষের পাতায়, ক্লোরোফিলে…


আবার যদি দেখা হয়

আজ অনেকটা দূর থেকে দেখলাম, তুমি হেঁটে যাচ্ছো—নিঃশব্দে!
যেন নীলাকাশে এক নিঃসঙ্গ শঙ্খচিল।
এগিয়ে যাচ্ছে সমুদ্র। প্রাচীন গাছগুলো গর্ভবতী হচ্ছে।
হাতেগোনা কয়েকটি পাতা পড়ে গেল
করতোয়া নদীর জলে;
দূর হতে কৃষক তাকিয়ে দ্যাখে— চারাগাছগুলো হলুদ থেকে সবুজ, ঘন সবুজ হচ্ছে।
শুধু আমি বিস্ফোরিত হচ্ছি— মৃত কান্না বুকে জমে—এক চিলতে শুভ্র তুষারের পাতে
আমার হৃদয়ের খোলা জানলায় আজও তুমি দণ্ডায়মান
অপেক্ষায় আছি— ইন্দ্রধনু হয়ে ফিরে আসবে, ঘুমান্ত শহরে— নিঃশব্দে…


পাহাড়ের কান্না

পাহাড়ে উঠি আর সন্ধ্যের বুক চিরে নেমে আসে অন্ধকার
বিপজ্জনক নারীর চলনের মত—
উপত্যকার প্রান্ত থেকে অনেক দূরে
যেখানে বেঁচে থাকার তাগিদে মানুষের বসবাস
পরিকল্পিত ও অপরিকল্পিত আবাস।
ভোরের অধীনে ভেঙ্গে যায় নীরবতা
পাহাড় হয়ে ওঠে নিরস্ত্র পাথর যা নিক্ষেপযোগ্য নয়
অথচ রাতের শিশির ভেঙে কতিপয় মানুষ নিক্ষেপ করে পাহাড়
আর এইসব প্রতিবাদ যেন হারিয়ে যাওয়া আত্মীয়।

পাহাড় গুম হওয়া—
আর সন্ধ্যের বুক ভেঙে নেমে আসে অন্ধকার
গ্যাসোলিন গন্ধে অথবা ধসে পড়ে মৃত্যুর মিছিলে
যুদ্ধ সাম্রাজ্য বিস্তার ঘোড়া…


কর্ম ও খাদ্য বিষয়ক

ধরণীর আত্মার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে
কর্ম ও খাদ্যকে ধরণী বলে ডাকো।
যখন কর্ম করো, তুমি হয়ে যাও সুর
কর্মহীনতার কোলাহলে ঋতু বৈচিত্র্যহীন বছর।
কর্মের ডাকে
ক্ষুধা নিবারণের জন্য
হত্যা করো কোনো নিকষ তরু-পল্লবী
তৃষ্ণা মিটানোর জন্য
ছিনিয়ে নাও কোন নবজাতকের মায়ের দুগ্ধ।
যখন শরতের আকাশে স্মৃতিচারণে
হত্যা করেছো, দুগ্ধ ছিনিয়ে নিয়েছো
ত রক্ত মিশে আছে বৃক্ষ ও প্রাণরস—
জেনে রাখো,
ধরণীর কর্ম মিছিলে খাদ্য উপসর্গ মাত্র,
প্রকৃতি তোমার জন্য তা করেছে সৃজিত
যেন হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া বাঁশির সুর
সময়ের অস্ফুটস্বরে নৃত্য, প্রাণ ছন্দে সঙ্গীত।


মানুষ ও শীতনিদ্রা

শাশ্বত সত্যের উলুধ্বনি— পূর্নজন্মে মুছে যায় কি বিশ্বাস?
কত উপমা, কত ছন্দ হারিয়ে যায় অনন্তের দিকে
—জলের মগ্নতায়।
অগ্রগামীর পথে উষ্ণ বাতাসে, যাদের নিঃশ্বাস জ্বলমল করে
মহীতে কি নিভে গেছে ব্রুনোর জ্যামিতিক আভা?
যাদুকর কি ভুলে গেছে গত শীতনিদ্রায় দেখা হাইপাতিয়ার গাত্র।
অব্যয় সত্যের স্মরণকালে মিথ্যা আত্মশুদ্ধির উৎসবে,
হেরাক্লিতাসের নিবার্সিত হাসিতে কোপার্নিকাস দৌড়ে এসে
—দ্য রেভোলিউশনিবাস চেপে ধরে মুখে।